ঘুম মানুষের জীবনের নীরব সঙ্গী, অথচ এই নীরব সঙ্গীকেই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হচ্ছে। দিনভর কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা আর পর্দার আলোয় রাত গভীর হলেও চোখে ঘুম আসে না। বিছানায় শুয়ে শুয়ে সময় কাটে, শরীর ক্লান্ত হলেও মন জেগে থাকে। এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়, প্রতিদিন এমন সমস্যায় ভুগছেন অসংখ্য মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে চাঙা রাখে, মস্তিষ্কের কাজের গতি বাড়ায়, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং বাড়তি ওজন কমাতেও সহায়তা করে। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ঘুমানোর জায়গার অস্বস্তি, দুশ্চিন্তা, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা অতিরিক্ত চিন্তার কারণে অনেকেই ঠিক সময়ে ঘুমোতে পারছেন না। কখনো কখনো অতিরিক্ত চেষ্টা করাটাই ঘুমের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞান কিছু কার্যকর উপায় সামনে এনেছে, যেগুলো অনুসরণ করলে তুলনামূলক কম সময়েই ঘুমিয়ে পড়া সম্ভব। সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত একটি পদ্ধতিতে মুখ ও ঘাড়ের পেশি ধীরে ধীরে শিথিল করে গভীর শ্বাস নিতে বলা হয়। এরপর শরীরের নিচের অংশ ঢিলা করে কোনো শান্ত দৃশ্য কল্পনা করলে শরীর দ্রুত আরাম পায়। নিয়মিত অনুশীলনে এই পদ্ধতি দ্রুত ঘুম আনতে সাহায্য করে।
আরেকটি পরিচিত উপায় হলো নির্দিষ্ট ছন্দে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার কৌশল। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্নায়ু শান্ত হয় এবং পুরো শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসে। তবে যাদের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নিদ্রাহীনতায় ভোগা অনেকের জন্য কার্যকর আরেকটি কৌশল হলো ধাপে ধাপে শরীরের পেশি শিথিল করা। কপাল, মুখ, ঘাড় থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশে অল্প সময়ের জন্য চাপ দিয়ে আবার ছেড়ে দিলে জমে থাকা দুশ্চিন্তা ধীরে ধীরে কমে যায়। এর ফলে মন শান্ত হয় এবং ঘুম আসতে সহজ হয়।
মজার একটি পদ্ধতিতে আবার ঠিক উল্টো কাজ করতে বলা হয়। ঘুমানোর চেষ্টা না করে বরং নিজেকে জেগে থাকতে বলা হয়। এতে শরীর মানসিকভাবে চাপমুক্ত হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এই কৌশল খুব বেশি প্রচলিত না হলেও অনেকের ক্ষেত্রে দ্রুত ফল দেয়।
এই সব পদ্ধতির পাশাপাশি জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তেজক পানীয় এড়িয়ে চলা, রাতে হালকা খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত সময় মেনে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস ভালো ঘুমের ভিত্তি তৈরি করে। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলোই নিদ্রাহীন রাতকে বদলে দিতে পারে প্রশান্ত ঘুমে।
এমকে/টিএ