চুয়াডাঙ্গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত

টানা এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা থাকলেও হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন এখনো বিপর্যস্ত। সকাল থেকে রোদের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাইছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, জেলায় টানা এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে এবং এটি আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা। ভোরে কাজে বের হলেই ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসছে বলে জানান তারা।

শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

তীব্র শীত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে যানবাহনে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম। এখন শীত এত বেশি যে ওগুলোতে বসে থাকা যায় না। হেঁটে গেলে শরীর কিছুটা গরম হয়, কিন্তু হাত-পা খুব ঠান্ডা হয়ে যায়।

শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। একই সঙ্গে প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল বেলায় ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম থাকে। সাধারণত রোদ উঠলে তারপর কিছুটা ক্রেতা আসতে শুরু করে। শীতের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লেনদেন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম হচ্ছে।

আরআই/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
অভিষেকেই নবীর ছেলের ঝড়ো ব্যাটিং, রেকর্ড সংগ্রহ নোয়াখালীর Jan 11, 2026
img
কিউবাকে দ্রুত ‘চুক্তি করার’ আহ্বান ট্রাম্পের Jan 11, 2026
img
সবাইকে ‌‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: আলী রীয়াজ Jan 11, 2026
img
২০২৬ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা স্কোয়াডে জায়গা নিশ্চিত যাদের Jan 11, 2026
img
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী আকি আবে Jan 11, 2026
img
গালাগালির ঝড় তুলে শহিদকে ছাপিয়ে আলোচনায় ফরিদা জালাল Jan 11, 2026
img
সাবেক মার্কিন স্টেট সেক্রেটারির সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক Jan 11, 2026
img
এফডিসি পরিদর্শন করলেন সৈয়দা রিজওয়ানা Jan 11, 2026
img
ট্রাইব্যুনালে প্রথম জামিন পেলেন জুলাই হত্যা মামলার আসামি Jan 11, 2026
img
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, ইইউ পর্যবেক্ষক দলকে প্রধান উপদেষ্টা Jan 11, 2026
img
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুললেন ঢাকাই নায়িকা পূজা চেরি Jan 11, 2026
img
বিপিএল ছাড়ার আগে কী ছিল রসিংটনের শেষ বার্তা Jan 11, 2026
img

দুদক চেয়ারম্যান

২০০৮ নির্বাচনে হলফনামা ঠিকমতো যাচাই হলে হাসিনার প্রার্থিতা বাতিল হতো! Jan 11, 2026
img
গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ ট্রাম্পের Jan 11, 2026
img
মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা! Jan 11, 2026
img
১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট, নতুন নির্দেশনা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের Jan 11, 2026
img
জাতীয় নির্বাচনের পর কী করবেন ড. ইউনূস, জানাল প্রেস উইং Jan 11, 2026
img
ইইউয়ের পর্যবেক্ষক পাঠানো নির্বাচনের জন্য বড় অ্যান্ডোর্সমেন্ট: প্রধান উপদেষ্টা Jan 11, 2026
img
বিলুপ্ত জাতের প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি : মৎস্য উপদেষ্টা Jan 11, 2026
img
বাবা-ছেলেকে একাদশে রেখে নোয়াখালীর ইতিহাস Jan 11, 2026