সিরিয়ার আলেপ্পো ছেড়ে গেলেন কুর্দি যোদ্ধারা

চারদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি এলাকা থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। শহরটিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এসডিএফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আলেপ্পো থেকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের তাবকাহ শহরের দিকে সরে যেতে শুরু করেছে এসডিএফ সদস্যরা। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া শুরু করায় আবারও নিজ বাসস্থানে ফিরে আসছে বাস্তুচ্যুত আলেপ্পোর বাসিন্দারা।

আলেপ্পোর সড়কের চিত্রটা এখন অনেকটা এরকম সারি সারি মানুষের ভিড়। কেও খুশিমনে ফিরছে নিজ ঠিকানায়, আবার কারও চোখে আনন্দ অশ্রু। ৪ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে তাদের চিরচেনা শহর ছাড়ছে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠীর সব সদস্য।

মূলত, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে সরকারবাহিনী ও সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস। বিবৃতিতে এই খবর নিশ্চিত করেছে সিরীয় প্রশাসন ও এসডিএফ কমান্ডার মাজলুম আবদি।

গত মঙ্গলবার থেকে দু'পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় আলেপ্পোর কুর্দি নিয়ন্ত্রিত শেখ মাকসুদ, আল আশরাফিয়া এবং বনি জায়েদ এলাকা। পুরো শহরকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলতে শুরু করে সামরিক বাহিনী। সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ট্যাংক ও সাজোয়া যানে ছেয়ে যায় সড়ক। ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরও চারদিক থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পরে এসডিএফ যোদ্ধারা। উপায়ান্তর না দেখে যুদ্ধ বন্ধ করে এসডিএফ সেনাদের শহর থেকে নিরাপদে সরে যাওয়ার শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় এসডিএফ।

আলেপ্পো শহরের ডেপুটি গভর্নর আলি হান্নোউরাহ বলেন, 'শেখ মাকসুদ থেকে এসডিএফ সদস্যদের একেবারে সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন। বড়জোর কয়েকঘণ্টা বা আগামীকাল পর্যন্ত চলতে পারে এই প্রক্রিয়া। যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা। তবে সেটি তাদের নিজেদের ইচ্ছায়, বাধ্যতামূলক কিছু নয়। তাদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।'

সিরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, চুক্তির শর্ত মোতাবেক রোববার আলেপ্পোর আল মাকসুদ থেকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের তাবকাহ শহরের দিকে সরে যেতে শুরু করেছে এসডিএফ বাহিনীর সদস্যরা। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই আলেপ্পোতে ফিরতে শুরু করেছে বাসিন্দারা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষদিকে শারা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নতুন প্রশাসনে একিভুত করার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা দ্বন্দ রূপ নেয় সংঘাতে। আলেপ্পো ছাড়লেও সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকার নিয়ন্ত্রণ না ছাড়তে নারাজ কুর্দি যোদ্ধারা।

এসএস/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
'এটা নিয়ে আমি চিন্তাও করি না', বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে শান্ত Jan 11, 2026
img
প্রতিশ্রুতির চেয়েও পাঁচগুণ বেশি কাজের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি: সাদিক কায়েম Jan 11, 2026
img
জেতার জন্য সবাইকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান Jan 11, 2026
img
সাবেক আইনমন্ত্রী ও তার বান্ধবীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা Jan 11, 2026
img
গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে খুশির বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা! Jan 11, 2026
img
চট্টগ্রামে আগুনে পুড়ল ৬ বসতঘর Jan 11, 2026
img
প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি আখতার হোসেনের Jan 11, 2026
img
দুই দফা ফোনালাপের পর জেদ্দায় তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের সাক্ষাৎ Jan 11, 2026
img
ফোনালাপের পর জেদ্দায় সরাসরি বৈঠকে বসেছেন তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দার Jan 11, 2026
img
বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কলম্বিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর Jan 11, 2026
img

স্প্যানিশ সুপার কোপা

এল ক্লাসিকো ফাইনালে রিয়াল-বার্সেলোনার মাঝে কে ফেবারিট? Jan 11, 2026
img
প্রয়াত ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ তারকা কাজ করেছিলেন সালমানের সঙ্গে Jan 11, 2026
img
ব্যক্তিগত কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন দুলুর স্ত্রী ছবি Jan 11, 2026
img
ইরানে ‘শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর’ দেখতে চায় যুক্তরাজ্য Jan 11, 2026
img
নির্বাচন স্থগিত, হতাশ প্রার্থী ও ভোটাররা Jan 11, 2026
img
রাজধানীর কাকরাইলে চলন্ত মাইক্রোবাসে আগুন Jan 11, 2026
img
দাঁড়িপাল্লা-মাহফিল নিয়ে দেওয়া জামায়াত নেতার বক্তব্য ভাইরাল Jan 11, 2026
img
ছবি মুক্তির আগেই বরুণের বিশাল প্রাপ্তি! Jan 11, 2026
img
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সদস্য তালিকা চাইল ইসি Jan 11, 2026
img
কেয়া- খায়রুলের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে জল্পনা Jan 11, 2026