হিটলার যুগের কৌশল অবলম্বন করছেন ট্রাম্প: তেহরান
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৭ পিএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে করা দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের অভিযোগ, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আসন্ন পারমাণবিক আলোচনাকে ভেস্তে দিতে হিটলার যুগের কৌশল অবলম্বন করে ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন ট্রাম্প। খবর তেহরান টাইমসের।
কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছর পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান ৩০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং তথাকথিত সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ রাষ্ট্র-সমর্থক হিসেবে রয়ে গেছে।
তবে ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এসব মন্তব্য একটি পরিকল্পিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার অংশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পুনরাবৃত্ত অভিযোগগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মিথ্যা বর্ণনা দাঁড় করানোর ওপর নির্ভর করছে।
বাঘায়ি লেখেন, পেশাদার মিথ্যাবাদীরা সত্যের ভ্রম সৃষ্টি করতে ওস্তাদ। তিনি জার্মানির নাৎসি প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলস-এর সঙ্গে প্রায়ই সম্পৃক্ত একটি প্রচারণা নীতির উদ্ধৃতি দেন; একটি মিথ্যা বারবার বললে তা সত্যে পরিণত হয়।
তার দাবি, এই কৌশল এখন মার্কিন প্রশাসন ও তাদের মিত্ররা পদ্ধতিগতভাবে ব্যবহার করছে।
বাঘায়ি বলেন, এই পন্থা যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং তাদের ঘিরে থাকা যুদ্ধবাজ গোষ্ঠী; বিশেষ করে গণহত্যাকারী ইসরায়েলি শাসন, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে সমন্বিত বিভ্রান্তি ও মিথ্যা তথ্য প্রচারণা চালাতে ব্যবহার করছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পুরোনো অভিযোগ পুনর্ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের ভিত্তি তৈরি করছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে চলা বিক্ষোভে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, ট্রাম্পের এমন দাবি বাস্তব সংখ্যার তুলনায় দশগুণ বেশি। ইরানি কর্তৃপক্ষ ফরেনসিক মেডিসিন অর্গানাইজেশন, কবরস্থান ও স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সঙ্গে কয়েক দিনের তদন্ত শেষে প্রায় ৩ হাজার ১০০ জন নিহতের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে নাম ও পরিচয় নম্বর উল্লেখ রয়েছে। এ সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলে প্রমাণ হাজির করার চ্যালেঞ্জও জানানো হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জানুয়ারির দাঙ্গা শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা ও হঠাৎ ডলার সংকটজনিত অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিসেবে। পরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যখন সিআইএ ও মোসাদের অনুপ্রবেশকারীরা অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করে।
তাদের দাবি, প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ এসব সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাতে নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন প্রায় ৬০০ দাঙ্গাকারী।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। বুধবার এক ভাষণে তিনি বলেন, ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিতে তিনি আগে থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন।
কালিবাফ বলেন, ভুল তথ্য দিয়ে বিশ্লেষণ করবেন না এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভুলভাবে জানিয়েছিল যে বিক্ষোভের সময় মাশহাদ শহর দাঙ্গাকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করেছে।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
টিজে/এসএন