ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। এটা হতাশার। জুলাই সনদের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন প্রদর্শিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচনসহ সবকিছুই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে ইসলামী আন্দোলনের মিডিয়া সেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ‘আমরা বারংবার বলেছিলাম, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা করে আয়োজন করুন। এই জাতীয় নির্বাচনসহ সবকিছুই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের বরাতেই বৈধ হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজিত হলে গণভোটের আলোচনা আড়ালে চলে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সেই দাবিকে উপেক্ষা করার পরিণতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। এটা হতাশার। জুলাই সনদের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন প্রদর্শিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকার, এই নির্বাচনসহ সবকিছুই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই জুলাই সনদের আলোচনা জারি রাখতে হবে।’
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘চব্বিশের জুলাইয়ে জনতা কেবল নির্বাচনের জন্য জীবন দেয় নাই বরং একটি মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে রাজপথে লড়াই করেছে। জুলাই সনদে সেই প্রত্যাশা পুরোটা না হলেও বহুলাংশে সন্নিবেশিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনসহ জাতির দেশ গড়ার যে সুবর্ণ সুযোগ আমরা এখন পাচ্ছি তার পুরো কৃতিত্ব ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের। চব্বিশের জুলাইয়ে আমাদের তরুণ শিক্ষার্থী ও জনতা রাজপথে জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছিল বলেই আমরা ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।’
চরমোনাই পীর বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ উৎখাত হলেও ফ্যাসিবাদী আইন-রীতি ও সংস্কৃতির উৎখাত হয় নাই। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যা’-কে জয়যুক্ত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে ‘হ্যা’-কে জয়যুক্ত করতেই হবে। সেজন্য দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সরকারের প্রতি জুলাই সনদের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, ‘সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য জননিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটে নাই। এই বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
পিএ/টিএ