শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টির জন্য খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার রাখা উচিত, তার মধ্যে একটি হলো ডিম। ডিমে প্রচুর পরিমাণে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা শরীরের টিস্যু মেরামত ও গঠন করতে সাহায্য করে। ডিমের কুসুমে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফসফোলিপিড, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই ও ভিটামিন কে।
ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্ক ও লিভার ভালো রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া ভিটামিন বি-১২, ফলেটসহ বিভিন্ন ভিটামিন শক্তি উৎপাদন ও স্নায়ুর স্বাস্থ্য বজায় রাখে। লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের রেটিনার সুরক্ষা দেয়, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে।
অন্যদিকে কোলেস্টেরল বা হার্টের সমস্যা থাকলে তাদের ডিম খেতে বারণ করা হয়। কাউকে ডিম খাওয়ার অনুমতি দিলেও কুসুম খেতে বারণ করা হয়।
যারা জিমে যান তারাও প্রতিদিন একাধিক ডিম খান। এতে কী প্রভাব পড়ে আপনার শরীরে জানেন?
দিনে ৪টি করে ডিম খেলে কী প্রভাব পড়ে
প্রতিদিন ৪টি ডিম খাওয়া অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে সবার জন্য নয়। কী লাভ? ভয় কোথায়? রইল বিস্তারিত…
ডিম উচ্চমানের প্রোটিন সরবরাহ করে, যা মাংসপেশি গঠন, টিস্যু মেরামত ও শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কোলিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, স্মৃতিশক্তি ও লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে২ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্য ও ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। ডিমে থাকা সুস্থ ফ্যাট ও ফসফোলিপিড শরীরকে দীর্ঘক্ষণ শক্তি দেয়। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের রেটিনার সুরক্ষা দেয় ও চোখের ক্লান্তি কমায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক, কারণ ডিম পেট ভরিয়ে রাখে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
কী কী খারাপ প্রভাব পড়তে পারে
যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কুসুম কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। ৪টি ডিম খেলে গ্যাস, অম্বল বা হজমে সমস্যাও হতে পারে, বিশেষত কারো যদি ডিমে অ্যালার্জি থাকে।
রান্নার ধরন স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে, অতিরিক্ত তেল বা মাখনে ভাজা ডিম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলেও বিপদ, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে।
ডিমে রয়েছে কোলিন, ন্যাচারাল বি-১২, ফলেটসহ এমন সব উপাদান, যা অনেকে জিনগত কারণে পর্যাপ্তভাবে পায় না। কোলিন লিভার ও মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ৪টি ডিম খেতে কোনো বাধা নেই। অ্যাথলেট বা জিমে যারা রোজ ট্রেনিং করেন, তারাও অনায়াসে ৪টি ডিম খেতে পারেন। যাদের রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা স্বাভাবিক এবং কোনো অ্যালার্জি নেই, তারা ডিম খেতে পারেন।
কারা প্রতিদিন ডিম খাওয়া এড়িয়ে যাবেন
যাদের কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, ডিমে অ্যালার্জি আছে বা কিডনির অসুখে ভুগছেন, তাদের ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র : এই সময়
এমআর/টিএ