ইরানে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি ট্রাম্পকে ‘ভাঁড়ামিপূর্ণ’ ও ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, তিনি ইরানের ভেতরে সহিংসতা ও সন্ত্রাস উসকে দিচ্ছেন।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, সরকারের দমন-পীড়নে বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার কথা চিন্তা করবে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই আইআরজিসির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও কঠোর ভাষায় আক্রমণ করা হয়। তাকে ‘বর্ণবাদী’ বলে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু একসঙ্গে ‘ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের’ সংগঠিত ও পরিচালনা করছেন। তারাই ইরানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে।
ইরান সরকার দাবি করছে, সাম্প্রতিক সহিংসতার পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। এটা দেশীয় আন্দোলন নয় বরং বিদেশি ষড়যন্ত্রের ফল।
এ বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ভ্যালি নাসর বলেন, ইরানের নেতৃত্ব মনে করে, এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সরকার পরিবর্তনের একটি চেষ্টা। তার মতে, ইরান সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে এবং সে কারণেই তেহরান এখন আরও বেশি সন্দিহান।
ভ্যালি নাসর আরও বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশ্বাস করে, দেশের ভেতরে বিদেশি সমর্থিত গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারাই নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, মসজিদ ও সরকারি ভবনে হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বলে ইরান মনে করছে।
কেএন/টিকে