© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইলন মাস্কসহ ১২ ধনকুবেরের সম্পদ বিশ্বের ৪০০ কোটি মানুষের চেয়ে বেশি

শেয়ার করুন:
ইলন মাস্কসহ ১২ ধনকুবেরের সম্পদ বিশ্বের ৪০০ কোটি মানুষের চেয়ে বেশি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:০১ পিএম | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
বিশ্বের শীর্ষ ১২ জন ধনকুবেরের হাতে বর্তমানে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৪০০ কোটি অতিদরিদ্র মানুষের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সম্পদের এই পাহাড় রাজনীতিতে চরম বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

অক্সফামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ধনকুবেরদের সম্মিলিত সম্পদ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রভাব আলোচনা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মধ্যে অতিধনীদের সম্পদ ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার বলেন, ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান ব্যবধান একটি রাজনৈতিক সংকট তৈরি করছে। অঢেল অর্থ এখন রাজনৈতিক ক্ষমতা কেনার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইলন মাস্কের 'এক্স' কেনা কিংবা জেফ বেজোসের 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর মালিকানা নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, বিশ্বের শীর্ষ ধনীরা এখন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং করপোরেট কর বৃদ্ধির চুক্তিগুলো ক্ষুণ্ণ করার পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ন্যূনতম করহার থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে ধনকুবেররা আরও ধনী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে অক্সফাম মনে করে।

এদিকে দাভোেস সম্মেলনের আগে সেখানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারী দাভোসে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অনেকের মুখে ছিল ইলন মাস্ক ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মুখোশ। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, গণতান্ত্রিক বৈধতা ছাড়াই গুটিকয়েক মানুষ দাভোসে বসে পুরো বিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তথ্যসূত্র : সিএনএন

পিএ/টিকে

মন্তব্য করুন