গোপালগঞ্জ-১ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হওয়া গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী কারাবন্দি কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই আদেশের ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে তার আইনি বাধা দূর হয়েছে। প্রার্থীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর ফলে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলেন এই প্রার্থী।
এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসার কাবির মিয়াকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে প্রার্থিতা বাতিল করেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করলেও শুনানি শেষে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দেয় ইসি।
ইসির ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন কাবির মিয়া।
শুনানিকালে তার পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরেন যে, সংশ্লিষ্ট ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। আইন অনুযায়ী কাবির মিয়া ঋণখেলাপি নন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার যুক্তি গ্রহণ করে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
কাবির মিয়া দুইবার মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
তিনি বরইতলা-মুকসুদপুর-কাশিয়ানী আঞ্চলিক বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি হিসেবে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ১৭ এপ্রিল ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে বিমানবন্দর সিভিল অ্যাভিয়েশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তার একটি সুসংগঠিত ভোটব্যাংক রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও মানুষের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে তার।
বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত।
২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাবির মিয়া গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের বিরুদ্ধে লড়ে প্রায় লক্ষাধিক ভোট পেয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাদের ভাষ্যমতে, কাবির মিয়ার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোটের সমীকরণ নতুন করে দেখা দিয়েছে। তার অংশগ্রহণ নির্বাচনী লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে। এই নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে বর্তমানে বিএনপি, জামায়াত ও এবি পার্টিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা বৈধ হিসেবে টিকে আছেন।
টিজে/এসএন