বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বুধবার (২০ জানুয়ারি) যাতায়াত করেছেন ১৪০৯ জন পাসপোর্টধারী। এসময় ভারতের সঙ্গে ২৭০ ট্রাক পণ্যের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য হয়েছে। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের প্রায় ১৪ লাখ টাকা আর বাণিজ্য খাতে প্রায় ১১ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
বুধবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, বুধবার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে মিলেছে ৭৫ ভারতীয় রুপি এবং ভারতীয় ১০০ রুপিতে বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১৩২ টাকা। প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।
বন্দরের তথ্য মতে, বেনাপোল ও পেট্রাপোলের মধ্যে সকাল ৯টা থেকে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়। মঙ্গলবার আমদানি হয় ২১৩ ট্রাক পণ্য। আমদানি পণ্যের তালিকায় ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশু খাদ্য, মেশিনারিজ দ্রব্য, অক্সিজেন, বিভিন্ন ধরনের ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য। রফতানি হয়েছে ৫৭ ট্রাক পণ্য। পণ্যের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন, কেমিক্যাল মাছ ও ওয়ালটন পণ্য সামগ্রী। ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট, পাটজাত দ্রব্য তৈরি পোশাক, কাঠের তৈরি আসবাবপত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি হয় না। দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।
এদিকে বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত পচনশীল জাতীয় আমদানি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিলো ২২ হাজার টাকা, চট্রগ্রাম ৩২ হাজার টাকা, খুলনা ১০ হাজার টাকা ও বরিশাল ২০ হাজার টাকা। তবে পচনশীল জাতীয় কাঁচামাল ছাড়া অন্যান্য পণ্য পরিবহনে বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিল ১৭ হাজার টাকা, চট্রগ্রাম ২২ হাজার টাকা, খুলনা ৮ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৬ ০০০ টাকা বলে ট্রান্সপোর্ট সূত্রে জানা গেছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গতবছরের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি, রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত অর্ধেকের নিচে কমে এসেছে। এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে গত বছরে তার আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে।
এতে চলতি অর্থবছরের গেল ৬ মাসে লক্ষমাত্রার চেয়ে এক হাজার ১২ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। বাণিজ্যে পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ইমিগ্রেশন তথ্য জানান, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাতায়াত। সোমবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১৪০৯ জন। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৭৮২ জন। এসব যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ৬২৩ জন, ভারতীয় ছিল ১৫৯ জন। এসময় ভারত থেকে ফিরেছে ৬২৭ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৫০১ জন ও ভারতীয় ছিল ১২৬ জন। ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।
এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেল পথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারকের কেবল ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলে অন্যান্য পণ্যের আমদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এমআই/এসএন