যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি করেছে। ট্রাম্পের ঘোষিত এই ‘‘বোর্ড অব পিস’’ প্রাথমিকভাবে গাজার পুনর্গঠন ও শান্তি স্থাপনার লক্ষ্যে কাজ করবে। তবে বোর্ডের কাঠামো, সদস্যপদ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, যিনি ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সমর্থন করেছিলেন। বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে চাইলে এক বিলিয়ন ডলার ফি প্রদান বাধ্যতামূলক, যা গাজার পুনর্গঠনে তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
প্রথম দফায় বোর্ডে যোগদানের জন্য বিশ্বব্যাপী কয়েক ডজন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ইতিমধ্যেই আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং কাজাখ প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বোর্ডে স্থায়ী সদস্য হতে এক বিলিয়ন ডলার ফি প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও তিন বছরের সাধারণ সদস্যপদ বিনামূল্যে নেওয়া সম্ভব। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প seven সদস্যের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডের সভাপতিত্ব করবেন এবং বোর্ডের মাধ্যমে গাজার জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে।
তবে বোর্ডের গঠন নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগও প্রকাশিত হচ্ছে। উভয় নির্বাহী বোর্ডে কোনো ফিলিস্তিনি নেই এবং গাজার বোর্ডে একজন ইসরায়েলি থাকলেও এতে কাতার ও তুরস্কের সিনিয়র রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে। ফিলিস্তিনি নেতারা বলেন, এটি একটি প্রাথমিকভাবে আমেরিকান বোর্ড, যা আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব বহন করছে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বকে দুর্বল করতে পারে। ইতিমধ্যেই মার্কিন তহবিল কমিয়ে দেওয়ার কারণে জাতিসংঘ গাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না।
বর্তমানে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বাস্তুচ্যুত ছয় লাখ মানুষ শীত, খাদ্য সংকট ও সীমিত আশ্রয়ের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে বোর্ড অব পিস কত দ্রুত পরিবর্তন আনতে এবং স্থায়ী শান্তি স্থাপন করতে সক্ষম হবে, তা আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, বোর্ড শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসী নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করবে, তবে এটি কি জাতিসংঘের কাঠামোকে প্রভাবিত করবে তা বিতর্কিত। বোর্ডের কার্যক্রমের সফলতা নির্ভর করছে সদস্যদের কার্যকর নেতৃত্ব, কূটনীতি এবং গাজার রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে পাওয়ার ওপর।
এমকে/টিএ