মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন প্রতিবেদন / বড় পরিসরের সংঘাত হলেও ইরানে ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৯ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় পরিসরের যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত হলেও ইরানে ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবিই প্রশ্নের মুখে পড়েছে, যেখানে তিনি ইরানের নেতৃত্ব সরিয়ে নিজের পছন্দের উত্তরসূরি বসাতে পারেন বলে দাবি করেছিলেন।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, বড় পরিসরের যুদ্ধ হলেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে ফেলা কঠিন হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট শনিবার (৭ মার্চ) তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের এই গোপন মূল্যায়নে এমনই ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
এই মূল্যায়ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে দুর্বল করে দিয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ইরানের নেতৃত্ব ‘সরিয়ে দিয়ে’ নিজের পছন্দের উত্তরসূরি বসাতে পারবেন তিনি। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, যুদ্ধের জেরে যে এমন ফলাফল পাওয়া যাবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষকেরা কাজ করেন। তারা সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন গোপন গোয়েন্দা তথ্য মূল্যায়ন ও প্রস্তুত করেন। এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয় প্রায় এক সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগেই।
এতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, সীমিত হামলা বা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বড় ধরনের আক্রমণের মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হলেও দেশটির সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব বিদ্যমান উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বর্তমান ক্ষমতার কাঠামো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে।
গোপন এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কথা বলা কয়েকজন সূত্র আরও জানান, ইরানের বিভক্ত বিরোধী শিবির ক্ষমতা দখল করতে পারবে- এমন সম্ভাবনাও ‘খুবই কম’ বলে মনে করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী ইরানে পাঠানোর মতো সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়নি। এছাড়া সেখানে যে পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে, তা বর্তমান সামরিক হামলার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা শুরু করার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। এই হামলায় ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি, ১৫০ জনের বেশি স্কুলছাত্রী এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এর জবাবে ইরান আশপাশের বিভিন্ন দেশে বহু লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি ইসরায়েলের একাধিক শহরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এমআই/টিকে