স্বাধীনতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ২৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।’
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আচার্যের পক্ষে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার তার বক্তব্যে বলেন, ‘সমাবর্তন একদিকে যেমন উদযাপনের মুহূর্ত, তেমনি এটি আত্মপর্যালোচনারও সময়। এটি শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর সামাজিক ও নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ সুগম করে।’
তিনি বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা যেমন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করে, তেমনি তা শিক্ষার্থীদের সততা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতাও সৃষ্টি করে।
’
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘নেতৃত্ব কেবল পেশাগত সাফল্য বা পদমর্যাদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং নৈতিক সংকটের মুহূর্তে, যখন বিবেকের সঙ্গে সুবিধার সংঘাত ঘটে, তখনই প্রকৃত নেতৃত্বের পরীক্ষা হয়।’
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক আবরার জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন, যা সংস্কারের দাবিতে একটি অরাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল। তিনি বিশেষভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি এ ঘটনাকে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাধারার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জলবায়ু অভিযোজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।’
তিনি গবেষণা ও উদ্ভাবনে আইইউবির অবদানের প্রশংসা করেন এবং মহাকাশ বিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির কাজের কথা তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি উচ্চশিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান উচ্চ ব্যয় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি ছাত্রদের জন্য বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, উচ্চশিক্ষায় সমতা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য অধিকার।
সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।
বক্তব্যের শেষাংশে অধ্যাপক আবরার স্নাতক শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং সততা, নাগরিক সচেতনতা ও জনকল্যাণে দায়বদ্ধতা বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যদি শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে যায়।
এমকে/টিএ