আদালতে অর্থঋণ মামলা আড়াই লাখের ঘরে, খেলাপিদের ‘রিটের ফাঁদে’ অসহায় ব্যাংক!
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৭ এএম | ১০ মার্চ, ২০২৬
ঋণ খেলাপিদের মামলা এখন আড়াই লাখের ঘরে পৌঁছেছে। গত বছরের প্রথম ৯ মাসেই নতুন মামলা বেড়েছে ২৬ হাজার। তবে খেলাপিদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না। অনেক খেলাপি উচ্চ আদালতে রিট দাখিল করে মামলা স্থগিত করে দিচ্ছেন। ফলে বছরের পর বছর ঋণ আদায় আটকে থাকার কারণে আর্থিক খাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা লোপাট হলেও আইনি জটিলতার কারণে তা আদায় করা যাচ্ছে না। অর্থঋণ আদালতে মামলা হলেও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম আটকে থাকে। ফলে অনেক ঋণের মামলা দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকছে। এতে আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে খেলাপিরা বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ করছে। তাই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে শুনানির আগে ঋণের একটি অংশ জমা দেয়ার বিধান চাচ্ছে।
জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঋণের ছোটখাটো চাঁদাগুলো আমরা আদায় করতে পারি, কিন্তু বড় বড় ঋণগুলো ফিরিয়ে আনা যায় না। যদি রাষ্ট্র এই ক্ষেত্রে একটু কঠোর হয়, তাহলে বিষয়টা সম্ভব। যদি বলা হয়, রিট দায়ের করার আগে ন্যূনতম এত শতাংশ টাকা জমা দিতে হবে, তাহলে ঋণের বিষয়ে খেলাপিরা সেটেলমেন্টে আসবে।
এমন প্রেক্ষাপটে ঋণ খেলাপিদের মামলায় আরও শক্ত অবস্থান নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, শুধু মামলা রুজু করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। মামলাটি নিয়মমাফিক চালাতে হবে, ভালো আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে এবং ডেটগুলো দ্রুত এগিয়ে আনতে হবে। মামলাগুলো কজ লিস্টে উপরের দিকে থাকবে যাতে দ্রুত শুনানি হয়।
সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঋণ খেলাপিদের মামলা এখন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩টি। এর মধ্যে ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে বিচারাধীন নতুন মামলা হয়েছে ২৫ হাজার ৫৮২টি। জট নিরসনে আইনজীবীরা মামলা নিষ্পত্তির জন্য সময় বেঁধে দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসাইন বলেন, লোন ডিফল্টাররা যেসব ঠিকানায় ঋণ নেন, অনেক সময় সেসব ঠিকানায় পাওয়া যায় না। তাই তাদের খুঁজে বের করতে অনেক সময় চলে যায়। কেউ ঋণ ডিফল্ট করলে মনে করে, মামলার কারণে আমার হাতে আরও পাঁচ বছর সময় থাকবে। ততদিনে অনেক ঋণের কারণে অনেক ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে চলে যায়। অর্থঋণ আদালত যদি প্রোপারলি একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে, যে মামলা শেষ হওয়ার আগে অতিরিক্ত সময় দেয়া হবে না, তাহলে দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব।
ঋণ খেলাপিদের মামলাগুলোতে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা আটকে রয়েছে ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও আইনি প্রক্রিয়া সহজ না হলে ভবিষ্যতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরআই/টিকে