ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) কর্মকর্তাদের বছরে অন্তত ৫০ রাত সীমান্ত এলাকার গ্রামে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সীমান্তবর্তী এলাকার গ্রামের মানুষদের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তোলা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার করার লক্ষ্যে এমন নির্দেশ দিয়েছে অমিত শাহ’র দপ্তর।
বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আসাম, পশ্চিমবঙ্গের মতো ‘সংবেদনশীল’ রাজ্যগুলোকে এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। ভারতের চার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ, আইটিবিপি , সশস্ত্র সীমা বল, আসাম রাইফেলসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যেই এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে । পাশাপাশি সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর পুলিশপ্রধানদের কাছেও এই বার্তা দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত নভেম্বরে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে ডিজি-আইজি সম্মেলনের পরেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ভারতের দীর্ঘ কাঁটাতার বিহীন সীমান্ত, সীমান্তে অবাধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রেক্ষিতই এমন নির্দেশ জারি করেছে নর্থ ব্লক।
কেন্দ্রের মতে, শুধু কাঁটাতার বা টহল বাড়ালেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। সীমান্ত গ্রামগুলোর মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, আস্থা বাড়ানো এবং স্থানীয় স্তরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহই আসল চাবিকাঠি। সেই কারণেই কর্মকর্তাদের নিয়মিত রাতযাপনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগটি কেন্দ্রের ভাইব্রেন্ট ভিজিলেন্ট প্রোগ্রামের একটি অংশ। ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল চালু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য- সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।
সূত্রের খবর, ওই ৫০ দিনের সফরে কর্মকর্তারা গ্রামবাসী, যুবক-যুবতী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনসিসি ক্যাডেট ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের ‘সীমান্তের চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করতে উৎসাহ দেয়া হবে, যাতে সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত নজরে আসে।
সম্প্রতি দিল্লিতে ভাইব্রেন্ট ভিলেজেস কর্মসূচি নিয়ে এক কর্মশালায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশের ভূমিকা শুধু নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়, সীমান্ত এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও সমান জরুরি।
এসএস/টিএ