দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ২৩ বছরের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণার কয়েকদিন পর এবার দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী রায়ে ২০২৪ সালের সামরিক আইন জারিকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রায় ঘোষণার পরপরই আদালত কক্ষ থেকেই হান ডাক-সুকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিচারপতি লি জিন-গোয়ান রায় পাঠের সময় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদ্রোহের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা ছিল আসামির দায়িত্ব। কিন্তু তিনি বরং সামরিক আইনকে বৈধ দেখানোর চেষ্টা করেছেন, জাল নথি তৈরি ও ধ্বংস করেছেন এবং সাংবিধানিক আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।’

আদালত জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইওন সুক ইউল- এর ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ঘোষিত সামরিক আইন ছিল অসাংবিধানিক ও অবৈধ।

আদালত প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, ‘৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন ঘোষণার মাধ্যমে সংসদ, জাতীয় নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যা ফৌজদারি আইনের ৮৭ ধারার অধীনে একটি বিদ্রোহ। একে আমরা ‘১২.৩ বিদ্রোহ’ হিসেবে উল্লেখ করব’।

ফৌজদারি আইনের ৮৭ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রক্ষমতা উৎখাত বা সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ভাঙার উদ্দেশ্যে সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগকে বিদ্রোহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে অনেক তথ্য, সামরিক আইন ঘোষণাকে বৈধ দেখাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান। মন্ত্রীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার চেষ্টা। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ জেনেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া। নির্দিষ্ট গণমাধ্যমের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বন্ধের বিষয়।

আদালত জানায়, যদিও হান দাবি করেছিলেন তিনি প্রেসিডেন্টকে সামরিক আইন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি স্পষ্টভাবে কোনো আপত্তি জানাননি।

আদালত হান ডাক-সুকে আরও যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। ৬ ডিসেম্বর (সামরিক আইন ঘোষণার তিন দিন পর) নতুন সিনক্রেট তৈরি করে ঘটনাকে পেছন থেকে বৈধ করার চেষ্টা। পরে সেই নথি ধ্বংসের নির্দেশ। প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে পাওয়া নথি অবৈধভাবে অপসারণ। অভিশংসন শুনানিতে পূর্বজ্ঞান ও নথি পাওয়ার বিষয় অস্বীকার করে মিথ্যা সাক্ষ্য।

রায় ঘোষণার আগে আইনজীবীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললেও রায় শোনার পর হান ডাক-সু দৃশ্যত বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি আদালতের সিদ্ধান্ত বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছি।’

ইউটি/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
লালমনিরহাটে নিজেকে ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ বললেন এমপি প্রার্থী Jan 22, 2026
img
সিলেটে বিএনপির জনসভায় ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ Jan 22, 2026
img
‘বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট জয়ের দাবিদার নয়, না খেললে ক্রিকেটের ক্ষতি হবে না’ Jan 22, 2026
img
মুজিবের হ্যাটট্রিকে ক্যারিবিয়ানদের সিরিজ হারাল আফগানরা Jan 22, 2026
img
‘পতৌদি প্যালেস’ থাকা সত্ত্বেও কেন কাতারে বাড়ি কিনলেন সাইফ! Jan 22, 2026
img
নেপালে ক্ষমতাচ্যুত ওলির আসনে লড়ছেন বালেন Jan 22, 2026
img
সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি Jan 22, 2026
img
তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী জনসভা, সিলেট মাদরাসার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ Jan 22, 2026
img
মাঠে নামছেন প্রার্থীরা, ৪ দলকে প্রচারণার আগেই ইসির সতর্কবার্তা Jan 22, 2026
img
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে পুতিন জানালেন ‘ডেনমার্ক অনেক কঠোর’ Jan 22, 2026
img
বিএনপির প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ শুরু Jan 22, 2026
img
কোন মন্ত্রে ৪৫-এও এমন লাবণ্য ধরে রেখেছেন কারিনা! Jan 22, 2026
img
ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিত নিয়ে বিমান বাংলাদেশের ব্যাখ্যা Jan 22, 2026
img
বদ্বীপে নতুন বিপদ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর Jan 22, 2026
img
মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে চ্যালেঞ্জ, আপিলে যাচ্ছেন বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান Jan 22, 2026
img
শাকিব খানের কোন কথাটি মেনে চলেন বুবলী! Jan 22, 2026
img
মায়ানমার থেকে উদ্ধার ৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন আজ Jan 22, 2026
img
বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করছে মেটার মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম থ্রেডস Jan 22, 2026
img
নির্ভয়ে সব নাগরিক অংশ নিতে পারেন, এমন নির্বাচনী পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ: জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র Jan 22, 2026
img
সিলেটে তরুণদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় Jan 22, 2026