বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আশিফা আশরাফি পাপিয়া বলেছেন, ইউনূস সরকারকে বলতে চাই, জোর করে জামায়াত ইসলাম বাংলাদেশে কোথাও নির্বাচন ভন্ডুলের চেষ্টা করলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাউকে দেশ থেকে বের হতে দেব না। ৬৪টি জেলার ডিসি-এসপিকে জেলার বাইরে বের দেব না। এই সরকার বিগত দিনের ছাপ্পা সিলের জেলায় জেলায় ট্রাইব্যুনাল করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেদিন জনগণ কিন্তু জণগণের আইন দেখিয়ে দেবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানিহাটি ইউনিয়নের কৃষ্ণগোবিন্দপুর কলেজ মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশীদের এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষের রক্ত, ১৪০০ প্রাণ যাওয়ার পর বাংলাদেশে আজকে এই সরকার এসেছে। এই সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনাদের মনের ভেতর কী আছে ১২ ফেব্রুয়ারি তা প্রকাশ হবে। হাসিনা তো ভারতে যেয়ে বেঁচেছে, আমেরিকা লন্ডন দুবাইয়ের কোনো ফ্লাইট আপনাদেরকে পার করার জন্য জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের মানুষ ঢুকতে দেবে না। কারণ এ সরকারের প্রধান দায়িত্ব নিরপেক্ষ নির্বাচনের।’
সাবেক এমপি পাপিয়া বলেন, ‘ছাপ্পা সিলের ভয় আমাকে দেখায়েন না। ২০১৮ সালে কীভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুর, বারোঘরিয়া, চরবাগডাঙ্গায় ছাপ্পা সিল প্রতিহত করেছি, তা জনগণ দেখেছে। অতএব, আমরা লঙ্কার রাবনদের ভয় পাই না। লঙ্কায় আমরা রাবন পাঠাই না, লঙ্কায় আমরা সেবক পাঠাই। জনগণের সেবা করার মানুষ পাঠাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তরুণ ভোটারদের জন্য বলতে চাই, আবু সাঈদ-মুগ্ধরা জীবন দিয়েছে পিকনিক খেয়ে ভোট বিক্রি করার জন্য নয়। তারা জামায়াতে ইসলামীর ৫০০ ফলের টাকার জন্য ভোট বিক্রির জন্য নয়। আবু সাঈদ-মুগ্ধরা জীবন দিয়েছে, বাংলাদেশে স্যতিকারের ভোটের অধিকার ফেরত পাওয়ার জন্য। ভোটারের ভোট যাকে দেবে, সেটাই গুনতে হবে। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ভোটে যদি চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুটি আসন পেতে পারি, তাহলে এখন এই পরিবেশে ভয়ের কোনো কারণ নেই।’
বিএনপি নেত্রী আশিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, ‘মা-বোনদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ছোট ছোট কোরআন শরীফ নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা যায় আর আপনাদের বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া যাবে। তারা অজু টা ঠিকমতো করে না ও কোনো ধর্মীয় শিক্ষা আছে বলে আমি মনে করি না। ওরা জামায়াতে ইসলামের বেতনভোগী কর্মচারী।’
আইকে/টিএ