© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খুলনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী / সংস্কার সভা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে ১২ তারিখ সংসদ ভবনের সামনে যাব

শেয়ার করুন:
সংস্কার সভা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে ১২ তারিখ সংসদ ভবনের সামনে যাব

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৩ পিএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
সংস্কার সভা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে আগামী ১২ মার্চ সংসদ ভবনের সামনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তিনি বলেছেন, অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছিল বাংলাদেশে, আহত হয়েছিল, যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অনেকেই আজকে সংসদ ভবনে ১২ তারিখে সংসদ অধিবেশন শুরু করতে যাচ্ছেন।

ভালো কথা, সংসদেই হলো সব কিছু হবে। এই সংসদ নির্বাচনে রিফর্ম অ্যাসেম্বিলি নামে বা সংস্কার সভা নামে একটি অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখেছিলাম, যিনি আমাদের বাংলাদেশের প্ল্যান দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, জনাব তারেক রহমান বলেছিলেন আপনারা সবাই গণভোটে হ্যাঁ দেবেন, আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি সেটা উনার মুখের কথা ছিল, অন্তরের কথা ছিল না। এ জন্য আমরা সরকারকে বলব সময় আছে, দ্রুত গতিতে সংস্কার সভা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন।

না হলে ১২ তারিখে আমরা সংসদ ভবনের সামনে যাব। সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে বলব, শুধু সংসদের ভেতরে বসে গুন্ডা, মাস্তান, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের নিয়ে সংসদ অধিবেশন করলে চলবে না। এই গুন্ডা, মাস্তান সংসদে যারা বসেছে তাদেরকে কীভাবে ঠিক করতে হয়, অ্যাকাউন্টিবিলিটি নিয়ে আসতে হয় সেই সংস্কার সভার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির উদ্যোগে বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সেই দিন (১২ মার্চ) যদি আমাদের পুলিশ দিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়, আমরা আপনাদের বলে দিতে চাই- কান খুলে শুনে রাখুন, আমরা এই সংস্কারের জন্য রাজপথে নেমেছিলাম। আমাদের একজনকে মেরেছিল, চল্লিশজন সামনে গিয়েছিল। চল্লিশ জনকে মেরেছিল চারশ জন গিয়েছিল। আমরা সেই দিন ভয় পাইনি। কাকে ভয় দেখান?

মামলা-হামলা করে ভয় দেখান? আমি যখন ক্যাম্পাসে ছিলাম ন্যাশনালিস্ট ফোর্সের কাউকে তো দেখিনি, রাজু ভাস্কর্যে একাই সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে ৫৪ দিন বসেছিলাম। তারেক রহমান আপনিও সেই অবস্থান দেখেছিলেন। আপনি সেই সময় দেখেছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে কারা দাঁড়াচ্ছে। আপনারা যখন বিদেশে ছিলেন, জেলের মধ্যে ছিলেন, আমরা ক্যাম্পাস আন্দোলন করেছিলাম, আপনাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। আপনারা তখন মজলুম ছিলেন, কিন্তু এখন যদি জালেম হিসেবে আবির্ভূত হন, আমরা কোনো জালেমকে ছাড় দেওয়ার পক্ষপাতি নই।

তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে খুলনার প্রাণ বৈচিত্র থেকে শুরু করে সবকিছু নষ্ট হচ্ছে। মানুষ জানিয়েছে কোস্টাল এরিয়াতে লবণাক্ত পানির পরিমাণ বাড়ছে। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে খুলনাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি- শেখ হাসিনা কুসুম কুসুম প্রেম করে ভারতের সাথে খুলনাতে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে দিয়েছিল, খুলনার মানুষের গলার ওপরে পা দিয়ে বসেছিল, অতিদ্রুত ভারতের সাথে সেই চুক্তি বন্ধ করে ভারতীয় এই ধ্বংসকারী পাওয়ার প্ল্যান্ট খুলনা থেকে বন্ধ করতে হবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় অনেকে সমঝোতার নামে ইনিয়ে-বিনিয়ে চাঁদাবাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। খুলনাতেও শুনেছি হোটেলগুলোতে চাঁদাবাজি হচ্ছে, বাসস্টেশনে চাঁদাবাজি হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। ভদ্রতার মুখোশ পড়ে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা খুলনাতে চাঁদাবাজি করছেন, আমরা তাদের নামও জানি, চিনি। আমরা আপনাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলে দিতে চাই- লাস্ট টাইমে ভদ্র সাজবেন না। যে আকাম-কুকাম করেছেন, সেটা বন্ধ করতে হবে। আমরা কারও বিরোধী নই।

এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, আমি সেই দিন গণঅভ্যুত্থানের পরে সরকার কীভাবে গঠন হবে, আমি তারেক রহমানের কাছে সেই রেফাত ভাইয়ের নাম প্রস্তাব করেছিলাম চিফ জাস্টিসের। উনি আমাকে একটা কথা বলেছিল, তুমি উনাকে খুঁজে পেয়েছো কই? আমি রিফাত ভাইকে খোঁজার জন্য বাড্ডার অলিতে-গলিতে বেরিয়েছিলাম, যে কোনো সময় মৃত্যুর মুখে পড়তে পারতাম। কিন্তু আমরা সেই রিস্কটা নিয়েছিলাম। আমি আপনাকে সেইদিন বলেছিলাম, আপনি বাংলাদেশের রিসোর্স দেখতে না পারেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ যেই সম্পদ রয়েছে, এটার ওপরে যদি আমরা বিশ্বাস রাখতে পারি, তবেই আমরা মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারব। আদার ওয়াইজ পসিবল না। আমাদের দিল্লি দরকার নেই, আমাদের ঢাকা আছে। যেই ঢাকাকে শক্তিশালী করে একটা সময় ভারতবর্ষে নতুন কিছু সূচিত হয়েছিল, এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না। পাড়ায়, মহল্লায় চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিটি গঠন করেন। কমিটি গঠন করে যারা যারা চাঁদাবাজ, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী করে তাদেরকে রাস্তায়, গাছের সাথে, পিলারের সাথে, স্কুলের দেওয়ালের বিভিন্ন খুঁটির সাথে বেঁধে রাখবেন। তারপর তাদের প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন। আমরা বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দুর্নীতি মেনে নেব না। আপনি যখন বিদেশে ছিলেন, আপনি চাঁদাবাজদের বন্ধ করতে পারেননি। দেশে এসেছেন, চাঁদাবাজদের নিবৃত করতে পারেননি। ঠিক আছে আপনি, আপনার কাজ করেন অফিসিয়াল, আমরাই চাঁদাবাজি বন্ধ করে দিচ্ছি। সমস্যা নেই, নতুন বাংলাদেশ গঠন হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ প্রমুখ।

এসএন 

মন্তব্য করুন