বাংলাদেশকে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে ১০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হাতিয়া উপজেলার হরনী ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১০ দলীয় জোট চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তেই আমাদের এই লড়াই।
তিনি বলেন, শহীদ রিজভীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। আগামী দিনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীসহ জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালানো হবে। জনগণ একটি ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১০ দলীয় জোটকে বিজয়ী করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহবাগ থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও আসন্ন নির্বাচনি লড়াই আরও জোরদার করা হবে। গত ১৭ বছরে পরিকল্পিতভাবে মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণ করে বিরোধী কণ্ঠ দমন করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে ১০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে।
এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ঢাকার উত্তরায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া মাহমুদুল হাসান রিজভীর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন আব্দুল হান্নান মাসউদ। কবর জিয়ারত শেষে দলীয় নেতা-কর্মী, জামায়াতে ইসলামীসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেন তিনি। পরে পথসভায় অংশ নেন।
জানা গেছে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এটিএম নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত তারা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের তানবীর উদ্দিন রাজীব এবং হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম।
পিএ/টিএ