আওয়ামী লীগ যদি বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, শেখ হাসিনাকে আর নেতৃত্বে নাও দেখা যেতে পারে বলে ইংগিত দিয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়। এময় তিনি দাবি করেন, হাদি হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগ নেই, এমন সহিংস লোকজন আওয়ামী লীগের ‘নেই’, হয়তো অন্য সংগঠনের থাকতে পারে। সবকিছুর দায় তারা আওয়ামী লীগের ওপর চাপাচ্ছে।”
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয় জয় বলেন, “আমার মা আসলে দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।” “আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এটা সবচেয়ে পুরনো দল। ৭০ বছর ধরে আছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই এ দল চলবে। কেউ তো চিরদিন বাঁচে না।”
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যত আছে কি না প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, “অবশ্যই আছে। আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না। এটা সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় দল। আমাদের ৪০-৫০ শতাংশ ভোট আছে। আপনি কি মনে করেন ৪০-৫০ শতাংশ মানুষ হঠাৎ সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেবে? দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৬-৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের। তারা কি হঠাৎ সমর্থন বন্ধ করে দেবে?” এসময় জয় দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে কোনো ‘কারচুপি হয়নি’। বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটা ‘দুর্ভাগ্যজনক’।
আওয়ামী লীগ ‘কখনো কাউকে’ নিষিদ্ধ করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল আদালতের সিদ্ধান্তে। “আমাদের জরিপ, আমেরিকানদের জনমত জরিপ-সবই দেখাচ্ছিল আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে। আমাদের কারও কোনো অনিয়মের প্রয়োজন ছিল না। প্রশাসনের ভেতরে কিছু লোক নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এসব করেছে। “আমরা একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচন চেয়েছিলাম, কারণ আমরা যে কোনোভাবেই জিততে যাচ্ছিলাম। আমি নিজেই আমাদের দলের জন্য জরিপ পরিচালনা করি-আমরা ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনে জরিপ করেছিলাম, যেগুলো ছিল মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র। ওই ১৬০টি আসনে আমাদের সর্বনিম্ন জয়ের ব্যবধান ছিল ৩০ শতাংশ। তাই কোনোভাবেই এর প্রয়োজন ছিল না।”
সহিংসতা ছড়ানো নিয়ে জয় বলেন, “দেখুন, যখন কাউকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলা হয়, তখন আর কী… কী হবে? আমরা সহিংসতা চাই না। আমাদের তো প্রতিবাদ করতেও দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ কী সহিংসতা করছে?” “আমি সহিংসতার হুমকি দিইনি। আমি বলেছি, আমাদের যদি সহিংসভাবে দমন করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সহিংসতা হবে। আমি আমার কর্মীদের হামলা করতে বলিনি। আমরা যখনই প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছি, তখনই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয়।”
পিএ/টিএ