রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ কথা জানান জেলেনস্কি। খবর বিবিসির।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সবকিছুই হচ্ছে জমির কারণে। পূর্ব ইউক্রেনের ভূমির ভবিষ্যৎই এখন সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয়।’
এদিকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মস্কো সফরে রওনা হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য। সফরের আগে তিনি বলেন, শান্তিচুক্তির পথে এখন একটিমাত্র জটিল বিষয় রয়ে গেছে এবং সেটি সমাধানযোগ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল ডনবাসকে একটি সামরিকহীন ও মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হতে পারে। এর বিনিময়ে কিয়েভকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়া হবে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত ডোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে কিয়েভ-যদি রাশিয়াও একই পদক্ষেপ নেয়। তবে রাশিয়া পুরো ডনবাস অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আলোচনার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক।
জেলেনস্কি জানান, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তাই কার্যকর হবে না।’
তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন, তবে চুক্তি কার্যকর করতে হলে তা মার্কিন কংগ্রেস ও ইউক্রেনের পার্লামেন্টে অনুমোদন নিতে হবে।
দাভোসে দেয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি ইউরোপীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ‘অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ইউরোপ ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে পারছে না।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের বর্তমান অবস্থানকে গুরুত্ব দিতে আগ্রহী নয়।
এদিকে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বড় অংশে বিদ্যুৎ, পানি ও গরমের ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তীব্র শীতে হাজারো ভবন এখনো উত্তাপহীন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত, তবে ডনবাস ও রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ এখনো অমীমাংসিত।
এমকে/টিএ