খুলনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের গণসংযোগে বিএনপির দুই ওয়ার্ড নেতার অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এই দুই নেতারা হলেন নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও একই ওয়ার্ডের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক গাজী আফসার উদ্দিন মাস্টার ও শহিদ খান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে ধারণ করা একটি ভিডিও আজ শুক্রবার প্রকাশ হলে বিএনপির নেতারা বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন। এ নিয়ে কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।
দলটির স্থানীয় নেতারা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে খুলনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের গণসংযোগ চালান। এ সময় জামায়াত প্রার্থীর প্রচার কার্যক্রম চলাকালে বিএনপির ওই নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বিষয়টির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, জামায়াত একটি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত। সেই দলের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অংশগ্রহণ দুঃখজনক। এতে দলের তৃণমূলে বিরূপ প্রভাব পড়বে। দলীয় আদর্শের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
এটি শুধু দলের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সদর থানা বিএনপির সভাপতি কেএম হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ওই দুই নেতা দলীয় আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহানগরের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচনের এই সময়ে এমন ঘটনা দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে কাম্য নয়।
মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ বলেন, আফসার মাস্টার ও শহীদ খান যেটা করেছেন তা মোটেই সমর্থনযোগ্য না।
তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খুলনা-২ আসনে নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। এই আসনে তিনিসহ চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
টিজে/টিকে