ইলেকশন কমিশনের নমনীয়তা ও ঋণখেলাপিদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।তিনি বলেন, ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে-সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। টাকার এ খেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে, এটা অব্যাহত থাকায় অতীতের ব্যবস্থাই যেন অব্যাহত রেখেছে-সেটা আমরা লক্ষ করছি।
গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমার যতটুকু মনে পড়ে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য বলেছেন, মনোনয়ন বৈধ করলাম, ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন। তার মানে এটা স্পষ্ট ওই ব্যক্তি ঋণখেলাপি।
একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনোভাবেই এটা হতে পারে না। আমার মনে হয়, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করা দরকার এ ধরনের আচরণ তারা কী ভবিষ্যতেও করবে। তারা যদি ভবিষ্যতেও এরকম আচরণ করে, তাহলে আমাদের কপালে অনেক দুঃখ' আছে। এ নির্বাচনও বিতর্কিত হতে বাধ্য। আমি আশা করি, নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আরো কঠোরতা প্রদর্শন করবে।
সুজন সম্পাদক বলেন, কেউ যদি আইন লঙ্ঘন করে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। আরো যেটা লক্ষ করেছি, পোস্টার ব্যালটের ব্যাপারে একটা বিতর্ক উঠেছে। আমরা আশা করছি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করবে। কারণ পোস্টার ব্যালট পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে, নির্বাচনি ফলাফলকে বিতর্কিত করে দিতে পারে।
তিনি বলেন, আরেকটা হচ্ছে অপতথ্য, এখন এআইয়ের যুগে অনেক কিছু করা সম্ভব। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত করা, মৃতকে জীবিত করা এবং বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার চালানো। অতীতে করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরো অনেক বেশি করা হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে সজাগ ও তৎপর থাকা দরকার। কারণ এগুলো নির্বাচন প্রভাবিত করবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে তৎপর হবে এবং তাদের করণীয় করবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ নিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, তারা যেন এ মানসিকতা পরিহার করে। তারা যে আচরণ করছেন, এটা অসহিষ্ণুতা, এ অসহিষ্ণুতা থেকেই সহিংসতার সৃষ্টি হয়। আমরা কোথাও কোথাও দেখেছি ডিম ছোড়া, ময়লা পানি ফেলা, সহিংসতা-এখনই এটা যদি বন্ধ না হয়, দলগুলো এবং তাদের প্রার্থীরা যদি এসব থেকে বিরত না থাকে, নির্বাচন কমিশন এবং সরকার যদি এগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে না আনে, তাহলে পরিস্থিতি বেসামাল পর্যায়ে যাবে।
নির্বাচনে টাকা বিলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই যে টাকার খেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে-এটা অব্যাহত থাকায় অতীতের ব্যবস্থাই যেন অব্যাহত রেখেছে সেটা আমরা লক্ষ্য করছি। বিশেষত ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে-সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটা কথা আছে, টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায়; এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষ থেকে অনেকগুলো সুপারিশ করেছিলাম। আমাদের একটা প্রস্তাব ছিল, নির্বাচন কমিশন যেন প্রতিনিয়ত প্রার্থীদের ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু কমিশন উপেক্ষা করছে আমাদের এ প্রস্তাব।
সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ-সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অবাধ পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এসএস/টিকে