মির্জা ফখরুলকে নিয়ে মেয়ের আবেগঘন পোস্ট

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৯তম জন্মদিন আজ। জীবনের আরও একটি বছর পেরিয়ে নতুন বছরে পা রাখলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে তিনি এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের দুই মেয়ে। তার বড় মেয়ে শামারুহ মির্জা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে সেখানেই শিক্ষকতা করেছেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বাবার জন্য ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন। ছোট মেয়ে সাফারুহ মির্জা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে রাজধানীতে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

জন্মদিন উপলক্ষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে শামারুহ মির্জা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার বাবাকে নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

আমরা দুই বোন যখন ছোট্ট ছিলাম, আমার বাবা চাকরি ছেড়ে, পুরো পরিবারকে ঢাকায় ফেলে ঠাকুরগাঁয়ে চলে যান। এক-দুইদিন না, বছরের পর বছর আমরা বড় হয়েছিলাম বাবাকে কাছে না পেয়ে, কারণ তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করবেন।

খুব কঠিন ছিল আমাদের বড় হওয়া। আমরা কষ্ট পেয়েছি, বিরক্ত হয়েছি কিন্তু আমার বাবাকে কোনোদিন নিরাশ হতে দেখিনি।

আমরা টুক টুক করে বড় হলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি, পিএইচডি করেছি, চষে বেরিয়েছি পৃথিবী। প্রায়ই ভাবি, আমার বাবাও শিক্ষক ছিলেন, তার জন্যেও আমার এই জীবনটা সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি কঠিনকে ভালোবেসেছিলেন- আপনাদের জন্য। সত্যিই বলছি। আপনাদের জন্য।

মির্জা আলমগীর এই ৭৮ বছরেও হতোদ্যম হননি। তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে ১১ বার, আওয়ামী হামলায় আহত হয়েছেন, হাসিনা ক্যাডাররা তার চরিত্র হত্যার চেষ্টা করেছে, এখন তাকে বাংলাদেশে উগ্রপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু তৈরি করা হয়েছে। শরীরটাও ভালো না। আমি তার মেয়ে- আমার দুশ্চিন্তার কোনো শেষ নেই। মির্জা আলমগীর বাসায় আমাদের যা বলেন, যে ভাষায় বলেন, আপনাদেরকেও ঠিক তাই বলেন- মন থেকে বলেন। তার চেহারা একটাই।

মির্জা আলমগীর প্রতিশোধের জন্য রাজনীতি করেননি। তিনি শুধু একটাই জিনিস চেয়েছেন সারা জীবন- গণতন্ত্র, সাধারণ মানুষের উন্নতির রাজনীতি।

ক্লিশে মনে হতে পারে কিন্তু আব্বুর সারা জীবন না হলেও অন্তত আমার সারা জীবনটুকু তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্যই দিয়েছেন। মানুষটা তার যৌবন দিয়েছেন এই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য, এই শেষ বয়সে এসে গণতন্ত্রের জন্য লড়ছেন। দৃঢ় সংকল্পে দাঁড়িয়ে আছে।

পিএ/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
প্রথমবার 'দিদি নাম্বার ওয়ান'- এর মঞ্চে স্বস্তিকা, বন্ধুকে ডেকে টিকটিকি ধরালেন রচনা! Jan 26, 2026
img
কলম্বোর ছক্কা মাদ্রাজে পড়বে, এসো না- পাকিস্তানকে নিয়ে ভারতের সাবেক অধিনায়ক Jan 26, 2026
img
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন কেন্দ্রীয়ভাবে ৭৯৯৭ ও স্থানীয়ভাবে ৪৭৪৫৭ জন : ইসি Jan 26, 2026
img
শাহবাগ থানার সাবেক ওসিসহ ট্রাইব্যুনালে হাজির ৪ আসামি, রায় আজ Jan 26, 2026
img
বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা, এজেন্টদের সরানোর দাবি গভর্নরের Jan 26, 2026
img
সঞ্চয়পত্র কেনায় সীমা তুলে দেয়ার কথা ভাবছে সরকার: অর্থসচিব Jan 26, 2026
img
আজ অভিনেতা ও গায়ক আনন্দ খালেদের জন্মদিন Jan 26, 2026
img
অনূর্ধ্ব-২০ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠান, ভারত-পাকিস্তানের গ্রুপে বাংলাদেশ Jan 26, 2026
img
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নধর্মী প্রচারণার সিদ্ধান্ত Jan 26, 2026
img
পরপুরুষের পাশে দাঁড়াতেও আপত্তি! ভাইরাল ভিডিও নিয়ে শোরগোল Jan 26, 2026
img
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ Jan 26, 2026
img
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা Jan 26, 2026
img
‘ইয়ামাল অন্য গ্যালাক্সির খেলোয়াড়’ Jan 26, 2026
img
‘তুর্কি নায়িকার মতো লাগছে’-অপুর নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা Jan 26, 2026
img
সিবিআই হেনস্তার পর রণহুঙ্কার থালাপতি বিজয়ের Jan 26, 2026
img
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ Jan 26, 2026
img
সামনে ম্যানইউর আরও বড় পরীক্ষা দিতে হবে- কোচের মন্তব্য Jan 26, 2026
img
শিবিরের তোলা অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন: বেরোবি ভিসি Jan 26, 2026
img
শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ১০ লাখেরও বেশি পরিবার Jan 26, 2026
img
আবারও একসঙ্গে সিনেমা করতে যাচ্ছেন শাকিব-হিমেল জুটি Jan 26, 2026