জলবায়ু সংস্থাগুলো থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কারণ কী?

যুক্তরাষ্ট্র অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বের হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করে। প্রায় এক বছর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সংস্থায় অংশগ্রহণ পর্যালোচনা শুরু করেছিলেন। এরপর দেশটি ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ত্যাগ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সেগুলো ‘মার্কিন স্বার্থের বিপরীতে’ মনে করা হচ্ছে।

এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত সংস্থা হলো জাতিসংঘের জলবায়ু ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) ও ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। যুক্তরাষ্ট্র ইউএনএফসিসিসি থেকে পুরোপুরি বের হতে এক বছর সময় নেবে। এরপর দেশটি আলোচনায় পূর্ণ অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে ভবিষ্যতের প্রশাসন চাইলে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে।

এ সিদ্ধান্ত শুধু সবুজ শক্তি বা নবায়নযোগ্য শক্তি সংস্থার উপর প্রভাব ফেলে না। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার ফলে বিশ্বের বাণিজ্য, নিয়ম ও সরবরাহ শৃঙ্খলাতেও প্রভাব পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপ ও চীন বিভিন্ন নিঃসরণ মান ও কার্বন নীতিমালা ঠিক করে, যা মার্কিন ব্যবসাকে প্রভাবিত করতে পারে।

অনেক সংস্থা ছাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্থায় এখনও আছে। যেমন ইউএন এনভার্নমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি), ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) ও ওয়ার্ল্ড মেটোরোলজিক্যাল অরগানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বেশি। কারণ তারা তথ্য ও বিশেষজ্ঞ সরবরাহ করে। কিছু সংস্থায় থাকায় তারা নিজস্ব শিল্প ও অর্থনৈতিক স্বার্থও রক্ষা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইউএনইপির গ্লোবাল প্লাস্টিক চুক্তিতে মার্কিন প্রতিনিধি দেশের প্লাস্টিক শিল্প রক্ষা করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি হলো, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব রাখতে পারে সেখানে থাকা, আর যেখানে প্রভাব নেই বা দেশের নীতির সঙ্গে বিরোধ আছে সেখানে বের হওয়া। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানি ও জলবায়ু নীতির ক্ষেত্রে এ নীতি লক্ষ্য করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্থা ছাড়লেও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তগুলো মার্কিন ব্যবসার উপর প্রভাব ফেলবে। ব্যবসায়ীদের এখন বিদেশি সরকার ও শিল্প সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এখনও সক্রিয়, সেই ফোরামে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে আগেভাগে সমন্বয় করতে হবে।
তথ্যসূত্র : এনডিটিভি

পিএ/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাদের বাড়ি ভাড়া না হবে, তারা হজ করতে পারবে না: বাংলাদেশকে জানাল সৌদি আরব Jan 26, 2026
img
প্রথমবার 'দিদি নাম্বার ওয়ান'- এর মঞ্চে স্বস্তিকা, বন্ধুকে ডেকে টিকটিকি ধরালেন রচনা! Jan 26, 2026
img
কলম্বোর ছক্কা মাদ্রাজে পড়বে, এসো না- পাকিস্তানকে নিয়ে ভারতের সাবেক অধিনায়ক Jan 26, 2026
img
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন কেন্দ্রীয়ভাবে ৭৯৯৭ ও স্থানীয়ভাবে ৪৭৪৫৭ জন : ইসি Jan 26, 2026
img
শাহবাগ থানার সাবেক ওসিসহ ট্রাইব্যুনালে হাজির ৪ আসামি, রায় আজ Jan 26, 2026
img
বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা, এজেন্টদের সরানোর দাবি গভর্নরের Jan 26, 2026
img
সঞ্চয়পত্র কেনায় সীমা তুলে দেয়ার কথা ভাবছে সরকার: অর্থসচিব Jan 26, 2026
img
আজ অভিনেতা ও গায়ক আনন্দ খালেদের জন্মদিন Jan 26, 2026
img
অনূর্ধ্ব-২০ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠান, ভারত-পাকিস্তানের গ্রুপে বাংলাদেশ Jan 26, 2026
img
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নধর্মী প্রচারণার সিদ্ধান্ত Jan 26, 2026
img
পরপুরুষের পাশে দাঁড়াতেও আপত্তি! ভাইরাল ভিডিও নিয়ে শোরগোল Jan 26, 2026
img
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ Jan 26, 2026
img
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা Jan 26, 2026
img
‘ইয়ামাল অন্য গ্যালাক্সির খেলোয়াড়’ Jan 26, 2026
img
‘তুর্কি নায়িকার মতো লাগছে’-অপুর নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা Jan 26, 2026
img
সিবিআই হেনস্তার পর রণহুঙ্কার থালাপতি বিজয়ের Jan 26, 2026
img
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ Jan 26, 2026
img
সামনে ম্যানইউর আরও বড় পরীক্ষা দিতে হবে- কোচের মন্তব্য Jan 26, 2026
img
শিবিরের তোলা অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন: বেরোবি ভিসি Jan 26, 2026
img
শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ১০ লাখেরও বেশি পরিবার Jan 26, 2026