© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চট্টগ্রামে ৬৫০ একর জমিতে ফ্রি ট্রেড জোন গঠন করা হবে: বিডা চেয়ারম্যান

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামে ৬৫০ একর জমিতে ফ্রি ট্রেড জোন গঠন করা হবে: বিডা চেয়ারম্যান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৫৮ পিএম | ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার- এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমির ওপর এই ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিনিয়োগ প্রচার সংস্থাগুলোর (আইপিএ) গভর্নিং বোর্ডের চতুর্থ সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম এবং আইপিএগুলোর নির্বাহী সদস্যরা।

এর আগে একই দিন দুপুর ২টায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বেজার গভর্নিং বোর্ড ফ্রি ট্রেড জোন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেয়। 

উল্লেখ্য, চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বর্তমানে বিডার পাশাপাশি বেজা ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ফ্রি ট্রেড জোনের জন্য প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমির ওপর এ জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। 

ফ্রি ট্রেড জোন কার্যত একটি ‘ওভারসিজ টেরিটরি’ হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে কাস্টমস সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা ছাড়াই পণ্য সংরক্ষণ, উৎপাদন এবং পুনঃরপ্তানির সুযোগ থাকবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের টাইম টু মার্কেট সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে দ্রুত উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। উদাহরণ হিসেবে আমেরিকান কটনের ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কেন আনোয়ারাকে ফ্রি ট্রেড জোনের জন্য বাছাই করা হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ফ্রি ট্রেড জোন অবশ্যই সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় হতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এ স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে এই ধরনের জোন করার সুযোগ ছিল না। ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে ফ্রি ট্রেড জোন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুবাইয়ের জেবেল আলি ফ্রি জোনের আদলে এই ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলা গেলে তা বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আটটি আইন ও বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজন হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

এমআই/এসএন

মন্তব্য করুন