© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে ৪ থেকে ৫ বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে ৪ থেকে ৫ বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪৬ পিএম | ১২ জুন, ২০২৬
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তা স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে নিতে সময় লাগবে। আগামী দুই বছর কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে চার থেকে পাঁচ বছর লাগবে। 

আজ (শুক্রবার) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন মন্ত্রী। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এজন্য শিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে এবং শ্রমিকরা উচ্চ আয়ের চাকরি পেতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, বর্তমানে নিম্নআয়ের ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। পরিবারভিত্তিক সহায়তা, কৃষি খাত, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পুনঃপ্রশিক্ষণ (রিস্কিলিং) এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিকে মূলধারায় আনতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কর্মসূচির মাধ্যমে কামার, কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য ঋণ, প্রশিক্ষণ, ডিজাইন সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার এখন বড় বড় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পে ‘ভ্যালু ফর মানি’ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে সামনে এগোতে দুই বছরের কৃচ্ছ্রসাধন প্রয়োজন হবে। এরপর অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে গিয়ে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে। জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আমরা সক্ষম হবো বলে বিশ্বাস করি।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করছেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াছিন), স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক- টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন