সিরিয়ার বিমানবন্দর থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে রাশিয়া

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার একটি বিমানবন্দর থেকে রাশিয়া তাদের সেনা প্রত্যাহার করছে বলে পাঁচজন সিরীয় সূত্র জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশটির এমন এক কোণায় সামরিক উপস্থিতির ইতি টানার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যেখানে দামেস্ক সরকার কুর্দি বাহিনীর কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

রাশিয়া ২০১৯ সাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কামিশলি বিমানবন্দরে সেনা মোতায়েন করে রেখেছিল। এটি ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের একটি মোতায়েন, সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত তাদের বিমানঘাঁটি ও নৌঘাঁটির তুলনায়, যেগুলো তারা বহাল রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার অধীন সরকারি বাহিনী চলতি মাসে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের কাছ থেকে উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে। এর মাধ্যমে দামেস্ক পুরো দেশের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এগিয়ে নিচ্ছে।

উভয় পক্ষের মধ্যে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি শনিবার ১৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। সূত্রগুলোর মধ্যে দুজন জানান, রুশ বাহিনী গত সপ্তাহে কামিশলি বিমানবন্দর থেকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার শুরু করেছে।

এক সূত্রের মতে, সেনাদের একটি অংশ পশ্চিম সিরিয়ায় স্থানান্তর করা হবে, আর অন্য অংশ রাশিয়ায় ফিরে যাবে বা রাশিয়ার হমেইমিম বিমানঘাঁটিতে যাবে। সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলের এক নিরাপত্তা সূত্র জানান, গত দুই দিনে কামিশলি থেকে রুশ সামরিক যান ও ভারী অস্ত্র হমেইমিম সামরিক বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। রুশ দৈনিক কোমারসান্ত গত সপ্তাহে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিরীয় সূত্রের বরাতে জানায়, কুর্দিদের সরিয়ে দেওয়ার পর সিরীয় সরকার রুশ বাহিনীকে ওই ঘাঁটি ছাড়তে বলতে পারে, কারণ ‘ওখানে তাদের (রুশদের) আর কিছু করার নেই’।

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া, প্রায় ১৪ মাস আগে শারা ক্ষমতা দখল করার পর থেকে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। শারা গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছিলেন, দামেস্ক ও মস্কোর মধ্যে অতীতে হওয়া সব চুক্তি তিনি সম্মান করবেন। এই অঙ্গীকার থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়ায় রাশিয়ার দুটি প্রধান সামরিক ঘাঁটি নিরাপদই থাকবে।

আইকে/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
মন পড়ার পাঁচ হাজার বছরের গোপন কোরিয়ান দক্ষতা ‘নুনচি’ Jan 26, 2026
img
চীন-ভারত ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার: শি জিনপিং Jan 26, 2026
img
ধানের শীষ শহীদ জিয়ার মার্কা : আবুল কালাম Jan 26, 2026
img
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাকের কঠোর হুঁশিয়ারি Jan 26, 2026
img
মা-বোনেরা ঝাঁটা, পুরুষ লোকের ইমাম নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন: পাপিয়া Jan 26, 2026
img
বক্স অফিসে কত আয় করল ‘বর্ডার ২’? Jan 26, 2026
img
গ্রিসে বিস্কুট কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩ Jan 26, 2026
img
জয়ার ‘ওসিডি’র ট্রেলারে শিউরে ওঠার গল্প Jan 26, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রে উড্ডয়নের সময় বেসরকারি জেট বিমান বিধ্বস্ত Jan 26, 2026
img
ঢাবির বিজ্ঞান ইউনিটে ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীই ফেল Jan 26, 2026
img
ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত Jan 26, 2026
img
মেট্রো রেলে ঝুলে শরীরচর্চা, সমালোচনার মুখে বরুণ Jan 26, 2026
img
বিএনপির ২১ নেতাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার Jan 26, 2026
img
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছোটবেলায় দেখেছি : অনন্ত জলিল Jan 26, 2026
img
বিয়ের পথে 'স্পাইডারম্যান' খ্যাত তারকা জুটি! Jan 26, 2026
img
প্রথম ধাপে তিনটি ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান পেয়েছে ইন্দোনেশিয়া Jan 26, 2026
img
ছেলের পর এবার কন্যা সন্তানের মা-বাবা হলেন ইকরা-ইয়াসির দম্পতি Jan 26, 2026
img
ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে বললেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস Jan 26, 2026
img
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলুক, চেয়েছিল ভারত: রাজীব শুক্লা Jan 26, 2026
img
রুশ বাহিনীর হামলায় ২ দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন কিয়েভের ১৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট Jan 26, 2026