দেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ব্যবস্থাপনায় পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে অর্থ বিভাগের সভা কক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সি আর আবরার বলেন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে গবেষণায় একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও বৈষম্যহীন ‘রিসার্চ ইকোসিস্টেম’ প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। গবেষণায় সক্রিয় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান পাওয়ার পর সরকারি অনুমোদন ও ক্লিয়ারেন্স পেতে দীর্ঘসূত্রিতার মুখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় ছয় থেকে আট মাস সময় লেগে যায়, যা গবেষণার উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করে।
তিনি আরও বলেন, জবাবদিহিতা অবশ্যই থাকবে, তবে যারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাদের জন্য একটি ‘ফাস্ট-ট্র্যাক সিস্টেম’ বা দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
গবেষণা খাতে বরাদ্দ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. আবরার বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জিডিপির মাত্র ০.৩ শতাংশ গবেষণায় বিনিয়োগ করছে, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত কম। তিনি বলেন, ‘শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় নয়, অনেক স্বল্পোন্নত দেশের চেয়েও আমাদের বিনিয়োগ কম। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান, গবেষণা এবং বিশেষায়িত ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।’
অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘অবকাঠামো খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ সময়মতো ব্যয় না হওয়ায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ফেরত যাচ্ছে, যা নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি গবেষণার ফলাফলকে কেবল কাগুজে প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ না রেখে তা থেকে বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ফিরদৌসী কাদেরী, অধ্যাপক ড. আবেদ চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. মোবারক আহমদ খান। কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/টিএ