তুরস্ক ইরান সীমান্তে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে যাচ্ছে, যদি তেহরান সরকার পতিত হয়, যাতে সম্ভাব্য শরণার্থী ঢল রোধ করা যায়। আঙ্কারায় সংসদে এক গোপন বৈঠকে তুর্কি কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, তারা ইরানের পাশে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে যাতে সীমান্তে প্রবেশকারী শরণার্থীরা তুরস্কে ঢুকতে না পারে।
ইতিমধ্যেই তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৫৬০ কিমি সীমান্তে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০৩টি ইলেক্ট্রো-অপটিক টাওয়ার, ৪৩টি লিফটসহ টাওয়ার, ৩৮০ কিমি মডুলার কংক্রিট প্রাচীর এবং ৫৫৩ কিমি প্রতিরক্ষামূলক খাল। সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলছে, ড্রোন ও বিমান ব্যবহার করে।
এর আগে, ইরানে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার পতনের কারণে হিংসাত্মক বিক্ষোভে প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিহত এবং ২০,০০০ আহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করছে।
তুরস্ক অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা থেকে সতর্ক, বিশেষ করে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের প্রভাবের কারণে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এক পূর্ণসংখ্যক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ হলে এক মিলিয়নের বেশি ইরানী শরণার্থী তুরস্ক সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসতে পারে।
বর্তমানে তুরস্ক জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো শরণার্থী গ্রহণ করবে না, তবে সীমান্তে বসবাসরত ১.২ কোটি আৎসারবাইজানি তুর্কদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
আইকে/এসএন