ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গুরুত্বপূর্ণ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিপি) সম্মত হয়েছে। চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘মাদার অব অল ডিলস’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, গত কয়েক বছর ধরে এই চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলছিল। অবশেষে আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন চুক্তির ঘোষণা দেন। লিয়েন এক এক্স পোস্টে বলেন, এই চুক্তির মধ্যদিয়ে উভয় পক্ষ ‘আজ ইতিহাস সৃষ্টি করলো।’
চুক্তিটিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ অভিহিত করে লিয়েন বলেন, ‘আমরা মাদার অব অল ডিলস সম্পন্ন করেছি। আমরা দুইশ’ কোটি মানুষের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি করছে। যার মাধ্যমে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।’
লিয়েন আরও বলেন, ‘এটা হলো আ টেল অফ টু জায়ান্টস, যাতে দুই পক্ষই উইন উই পরিস্থিতিতে থাকবে। ভারতের দক্ষতা ও পরিষেবা আসবে। তার সঙ্গে যুক্ত হবে ইউরোপের প্রযুক্তি।
কৌশলগত সহযোগিতা হবে। আমরা শুধু বাণিজ্য বাড়াচ্ছি তাই নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। ভারত ইইউর হাব হবে। একসঙ্গে গবেষণার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হবে। শিক্ষার্থী, দক্ষ শ্রমিক ও গবেষদের জন্য ইউ হাব করা হবে দিল্লিতে।’
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোলিয়া কস্টা বলেন, ‘আমরা ঐতিহাসিক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি। ভারত ও ইইউ-র মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নিরিখে একটা ঐতিহাসিক সময়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওভারসিজ ইন্ডিয়ান সিটিজেন। আমি গোয়ায় নিজের শিকড় নিয়ে গর্বিত। আমি তিনটি মেসেজ পৌঁছে দিতে চাই। আমরা দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করব। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সবচেয়ে বড় চুক্তি। আমাদের নিজেদের স্বার্থে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাই নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিয়ে চুক্তি হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র ইইউ ও ভারত জাতিসংঘের চার্টার নিয়ে এগোবে। একসঙ্গে আমরা আবিশ্ব ইস্যুর নেতৃত্ব দেব।’
অপরদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আজ একটা ঐতিহাসিক দিন, ভারত-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। আমাদের মধ্যে ১৮০ বিলিয়ন ইউরোর বাণিজ্য হয়। সমাজের সব অংশের লাভ পৌঁছাবে এমন একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় ফ্রি ট্রেড চুক্তি আমরা সম্পন্ন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা ঐতিহাসিক সমঝোতা। ভারতীয় কৃষি, শিল্প দ্রব্য ইউরোপে আরো সহজভাবে ঢুকবে। ভারত ও ইইউ-র মধ্যে বিনিয়োগ বাড়াবে, নতুন ইনোভেশন হবে, পার্টনারশিপ, সাপ্লাই চেন মজবুত হবে।’
এখন ইইউ পার্লামেন্ট এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও অনুমোদন করবে। তারপর ইইউ-র ২৭টি দেশ তাদের পার্লামেন্টে এই চুক্তি অনুমোদন করবে। তার জন্য বছরখানেক সময় লাগবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও ইইউসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক বসানোর পর ভারত ও ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে এ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে ইউরোপ নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থ ঢালছে। তার যুক্তি, ইউরোপ মস্কোর থেকে এখন সরাসরি গ্যাস বা তেল না কিনলেও ভারত থেকে পরিশোধিত তেল কিনছে। ভারত সেই তেল কিনছে রাশিয়া থেকে। এ কারণে ভারতের ওপর শুল্ক বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এমআই/এসএন