রমজান ২০২৬ উপলক্ষে মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদে তারাবিহ নামাজের নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
১৪৪৭ হিজরি, অর্থাৎ ২০২৬ সালের রমজানে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে তারাবিহ নামাজ আদায় করা হবে ১০ রাকাত। এর পর আদায় করা হবে ৩ রাকাত বিতর নামাজ।
এভাবে মোট ১৩ রাকাত নামাজ আদায় হবে। তারাবিহ ও বিতর মিলিয়ে পাঁচবার সালাম ফিরানো হবে। শেষ সালাম হবে বিতর নামাজের মাধ্যমে।
দুই পবিত্র মসজিদের বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, আসন্ন রমজানে রাতের তারাবিহ নামাজ এই নির্ধারিত কাঠামো অনুসারেই আদায় করা হবে।
মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির তারাবিহ নামাজ প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান এই নামাজের সঙ্গে হৃদয়ে যুক্ত থাকেন। রমজান শুরু হওয়ার কাছাকাছি সময়ে তারাবিহ নামাজের সময়সূচি ও ইমামদের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
করোনার আগে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে তারাবিহ নামাজ জামাতের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কায়েম করা হয়। তখন সাহাবায়ে কেরামের যুগে ২০ রাকাত তারাবিহ আদায়ের প্রচলন সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বহু সহিহ ঐতিহাসিক বর্ণনায় ২০ রাকাতের কথা পাওয়া যায়। এটি একটি প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য আমল ছিল।
করোনার সময় মুসল্লিদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সময় সংক্ষিপ্ত করা ও ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য তারাবিহ ১০ রাকাতে সীমিত করা হয়। তখন এটি ছিল একটি সাময়িক সিদ্ধান্ত।
পরবর্তীতে দেখা গেছে, ১০ রাকাতে কিরাআত বেশি দীর্ঘ ও তিলাওয়াতভিত্তিক হওয়ায় মুসল্লিদের মনোযোগ ও খুশু বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ১০ রাকাতের বেশি হলে যারা ওমরাহ করতে আসেন তাদের জন্য ওয়াজিব তাওয়াফ করতে কষ্ট হয়, তাই তারা ২০ রাকাত থেকে ১০ রাকাত তারাবির পদ্ধতি চালু করেছে। তারা মনে করে ব্যবস্থাপনাগত দিক থেকেও এটি সহজ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কর্তৃপক্ষ এই পদ্ধতিকে বহাল রেখেছে।
টিজে/এসএন