পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন আরো অস্থির হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময়ে চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এর মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ নেতা চীন সফরে যাচ্ছেন।
সফরের পথে বিমানে স্টারমার বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের দেওয়া অর্থনৈতিক সুযোগগুলো উপেক্ষা করার সামর্থ্য ব্রিটেনের নেই। তবে একই সঙ্গে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, চীনের বিষয়ে মাথা গুঁজে বালিতে লুকিয়ে থাকা কোনো যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নয়। আমাদের স্বার্থেই চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সফর, এবং আমরা বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করব। স্টারমারের সঙ্গে সফরে রয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি ব্যবসায়ী নেতার একটি প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর শুক্রবার তিনি সাংহাইয়ে গিয়ে স্থানীয় নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
এই সফর ব্রিটেন ও চীনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হংকংয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি চীনের সমর্থন এবং চীন নিয়মিতভাবে রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালায় বলে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অভিযোগের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছিল।
চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সফর বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে নিজেকে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ করে দিচ্ছে।