কারাগারের ভেতরে অবৈধ মুঠোফোন ব্যবহার ঠেকাতে জ্যামার লাগানো হয়েছে বিশেষ কারাগারে। শিগগিরই কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারেও বসানো হবে জ্যামার। কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে অনেকে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় জড়িতদের শাস্তিও দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ১ বছরে ৩০০ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন শাস্তি।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কারাগারের ভেতরে অবৈধভাবে ব্যবহার হয় ৩৬০টি মোবাইল ফোন নম্বর। এরমধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৭৯টি আর কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ২৮১টি নম্বর ব্যবহার হচ্ছিল। অবৈধভাবে মুঠোফোন ব্যবহার করে বাইরের মাদক কারবার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কেউ কেউ দিতেন রাজনৈতিক নির্দেশনাও। এমনকি কারাগার ভেঙে পালানোর মতো পরিকল্পনাও ছিল দুর্ধর্ষ আসামিদের।
বিষয়গুলো নজরে আসলে নড়েচড়ে বসে কারা কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত হয় কারাগারগুলোতে জ্যামার বসানোর। এরই মধ্যে বিশেষ কারাগারে বসানো হয়েছে জ্যামার। আর প্রক্রিয়া চলছে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারেও। অসাধু কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আর তল্লাশির ফাঁক-ফোকরে মোবাইল ফোন ভেতরে প্রবেশ করে বলে স্বীকার করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, ‘আমি আমাদের এক বছরের পরিসংখ্যান বলতে পারি। তিন শতাধিক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিভিন্ন অনিয়ময়ের সাথে জড়িত থাকার দায়ে শাস্তি হয়েছে। চাকরিচ্যুত থেকে শুরু করে বদলি, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি হয়েছে। সুতরাং এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড হলে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি।’
এদিকে নিরাপত্তা বাড়ানো আর কারাগারের মানোন্নয়নের জন্য বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানালেন কারা মহাপরিদর্শক।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রি. জে. সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, ‘কারাগারের টাইপ চেঞ্জ হবে, স্পেশালাইজড কারাগার হবে, যেখানে হয়ত মাদকাসক্তদের জন্য আলাদা কারাগার হবে। এ ছাড়া জুবিনাইলদের জন্য আলাদা কারাগার থাকবে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ওপেন জেল থাকবে।’
দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার হলেও গড়ে সেখানে থাকেন ৮০ হাজার আসামি।
ইউটি/টিএ