চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) তাদের সনাতন পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি থেকে বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। আগামী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে সব বিভাগের জন্য ‘অভিন্ন সেমিস্টার’ পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মানের আউটকাম-বেজড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপাচার্য দফতরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ কর্মশালায় এই পরিবর্তনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সহজে গ্রহণযোগ্য হবে এবং কমবে সেশন জট।
শিক্ষার্থীদের জন্য কী পরিবর্তন আসছে?
বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ) ও ওবিই বাস্তবায়নের ফলে চবির শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে তিনটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়:
১. আন্তর্জাতিক মান: কোর্স কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হবে যাতে বিদেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার সহজ হয়।
২. দক্ষতা নির্ভর শিক্ষা: শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, কোর্স শেষে শিক্ষার্থী সুনির্দিষ্ট কোন দক্ষতা অর্জন করবে, তা আগেই ঠিক করা থাকবে।
৩. অভিন্ন ক্যালেন্ডার: ক্যাম্পাসের সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে একই সময়ে সেমিস্টার শুরু ও শেষ হবে, যা সেশন জট কমাতে ভূমিকা রাখবে।
নতুন এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, ‘নতুন কারিকুলাম প্রথমে কঠিন মনে হলেও এটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আরও মনোযোগী করবে এবং তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে।’
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এই উদ্যোগকে চবির একাডেমিক ইতিহাসের ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন জানান, নতুন কারিকুলামের ফলে মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রকাশ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
আইকিউএসির সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় বিএনকিউএফ অনুযায়ী ক্রেডিট কাঠামো সংশোধন ও আধুনিক কারিকুলাম ডিজাইন নিয়ে শিক্ষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেয়া হয়। আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি ও প্রোগ্রাম সেলফ অ্যাসেসমেন্ট (পিএসএ) কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
আরআই/টিকে