বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের ওপর অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়ে বেড় চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। স্থগিতাদেশ তুলে নিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমকে চিঠি দিয়েছেন ৭৫ কংগ্রেসম্যান।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিশাল এই জনগোষ্ঠী উপেক্ষিত হচ্ছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশের আওতায় পড়েছেন।
গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশে অভিবাসী ভিসা দেয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট দফতর জানায়, যেসব দেশের অভিবাসীরা মার্কিন নাগরিকদের কল্যাণভাতা অগ্রহণযোগ্য হারে নিয়ে থাকে, তাদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।
সপ্তাহ ব্যবধানে দেশগুলোর ওপর থেকে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ তুলে নিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমকে চিঠি দিয়েছেন ৭৫ কংগ্রেসম্যান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, স্থগিতাদেশের কারণে ভিসাধারী ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি এশিয়ান-আমেরিকান পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারছে না।
আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশের আওতায় পড়েছেন। এতে বিশাল এই জনগোষ্ঠী উপেক্ষিত হচ্ছে উল্লেখ করে দ্রুত স্থগিতাদেশ তুলে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যুতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে ব্যাপক আকারে ভিসা দেওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত বছর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে সব মার্কিন দূতাবাসকে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
‘পাবলিক চার্জ’ নিয়মে সাধারণত দেখা হয়, কোনো ভিসা আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে নিজের খরচে জীবনযাপন করতে পারবেন কিনা। মার্কিন প্রশাসন যদি মনে করে, আবেদনকারী ব্যক্তি সরকারি কল্যাণভাতা বা অন্যান্য সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
কেএন/টিকে