মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান ইমাসে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিশেষ অভিযানে ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এই অভিযানে ভবনের ছাদে অন্ধকার স্থানে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান ইমাসে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে এক বিশেষ অভিযান চালায় দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।
আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি। তিনি জানান, ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৫ জন বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যারা গ্রেফতার এড়াতে দোকান ও আবাসিক ভবনের ছাদে লুকিয়ে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে মোট ১,০৮৭ জনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জনকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ৫২ জন নারী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মিয়ানমারের ৭৮ বাংলাদেশের ৫৬, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪, নাইজেরিয়ার ১২, নেপালের ১০, ভারতের ৫, শ্রীলঙ্কার ৪ এবং অন্যান্য দেশের মোট ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অতিরিক্ত সময় অবস্থান (ওভারস্টে) এবং অননুমোদিত কার্ড ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, পরবর্তী তদন্তের জন্য তাদের সবাইকে সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত একদিনে দেশজুড়ে মোট ১ হাজার ৬৯টি অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৭৯৩ জনের নথিপত্র যাচাই করে ৩ হাজার ৬৯১ জন অবৈধ অভিবাসী এবং ১১০ জন নিয়োগকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়দাতা বা নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে অবৈধভাবে অবস্থানরতদের জন্য সরকারের ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’ স্বেচ্ছায় দেশে চলে যাওয়ার সুযোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হবে। এরপর থেকে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
আরআই/টিকে