মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ কিউবার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযান আরো জোরদার হলো।
জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আওতায় একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অনুমোদিত এই পদক্ষেপে শুল্কের হার নির্দিষ্ট করা হয়নি কিংবা কোনো দেশকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, কিউবা সরকারের ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ও নীতির’ হাত থেকে ‘মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি’ রক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এর জবাবে শুক্রবার সকালে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াস-কানেল ট্রাম্পের যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন। দিয়াস-কানেল বলেন, ‘এই নতুন ব্যবস্থা একটি চক্রের ফ্যাসিবাদী, অপরাধমূলক ও গণহত্যামূলক চরিত্রকে তুলে ধরে, যারা কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থে মার্কিন জনগণের স্বার্থ জিম্মি করে রেখেছে।’
কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সতর্ক করে জানায়, এই আদেশ এমন এক দ্বীপে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যত অচল করে দিতে পারে, যা ইতোমধ্যে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। রাতের টেলিভিশন সংবাদে দেওয়া এক বিবৃতিতে কিউবা সরকার জানায়, ‘মার্কিন সরকার জীবনের সব ক্ষেত্রকে শ্বাসরুদ্ধ করে দেবে।
চলতি মাসের শুরুতে এক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনাবাহিনীর আটক করার ঘটনায় উৎসাহিত হয়ে ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া ও দেশটির নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বারবার বলে আসছেন।
ট্রাম্প এ সপ্তাহে বলেন, ‘কিউবা খুব শিগগিরই ভেঙে পড়বে’, এবং যোগ করেন, একসময় দ্বীপটির প্রধান তেল সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা সম্প্রতি কিউবায় আর তেল বা অর্থ পাঠাচ্ছে না।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দিত অবরোধ নীতিতে অন্য দেশগুলোকে যুক্ত করতে ব্ল্যাকমেইল ও জবরদস্তির আশ্রয় নিচ্ছে। তারা তা না মানলে স্বেচ্ছাচারী ও অপব্যবহারমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিচ্ছে, যা সব ধরনের মুক্ত বাণিজ্য বিধির লঙ্ঘন।’
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদজুড়ে পররাষ্ট্র নীতির হাতিয়ার হিসেবে বারবার শুল্ক আরোপের হুমকি ব্যবহার করে আসছেন।
এবি/টিকে