© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক, ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে সৌদি আরব!

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক, ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে সৌদি আরব!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৫৬ এএম | ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকেন, তাহলে তেহরান সরকার আরও উৎসাহিত ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ওয়াশিংটনে সম্প্রতি এক গোপন বৈঠকে দেশটির কর্মকর্তাদের এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান।

এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই পর্যায়ে যদি তেহরানে কিছুই না করা হয়, তা শুধুমাত্র ইরান সরকারকে আরও সাহসী করে তুলবে।’

বৈঠকের বিষয়ে অবগত একটি সূত্র দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে জানায়, একইসঙ্গে প্রিন্স খালিদ এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও লক্ষ্য ছাড়া ইরানে বোমা হামলা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

সূত্র জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে স্পষ্ট কৌশল ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করার আহ্বান জানান সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান নিয়ে সৌদি আরবের এই অবস্থান পূর্বের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। এর আগে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ব্যাপারে রিয়াদ তুলনামূলক সতর্ক ছিল।

একই দিনে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেক কর্মকর্তা বলেন, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যেমন ‘খারাপ পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে, তেমনি হামলা না হলে ‘ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে’।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি লেখেন,

‘সৌদি কর্মকর্তারা বিষয়টা ভালোভাবেই জানে।’

অ্যাক্সিওস আরও জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছেন, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। পাশাপাশি সৌদি কর্মকর্তারা কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের এই সতর্ক অবস্থানই সম্ভবত ইরানে সম্ভাব্য হামলার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছে।

শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, ইরান নিয়ে তার সবশেষ চিন্তাভাবনা কী? শুরুতে কোনো জবাব না দিতে চাইলেও পরে তিনি বলেন, আমরা ওই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সম্পদ জোরদার করেছি। আশা করি তারা (তেহরান) এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে যা গ্রহণযোগ্য।

হামলা না হলে ইরান আরও উৎসাহিত হতে পারে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ কেউ এটা মনে করতে পারে। আবার কেউ কেউ এটা মনে করে না।’

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

পিএ/টিকে

মন্তব্য করুন