বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে আইনে যাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে শুধু তাদেরই রাখা হোক। আজ বিএনসিসি (বিএনসিসি) আনা হচ্ছে, কাল হয়তো স্কাউটকে আনা হবে। এটা নির্বাচনের পরিবেশের জন্য শুভ নয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিএনপি প্রতিনিধিদলের এ বৈঠক হয়। নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজ এলাকার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। আইনের সরাসরি বাধা না থাকলেও নির্বাচনের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।
যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ তৈরি না হয়। এ বিষয়ে ইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।’
৫৫ হাজারের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক অনুমোদন দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ইসি কি সব কিছু গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে অনুমোদন দিয়েছেন? যাদের আসলে সক্ষমতা আছে, শুধু তাদেরই পর্যবেক্ষক করা উচিত।
পাশাপাশি এক কেন্দ্রে যেন একসঙ্গে অনেক পর্যবেক্ষক ঢুকে বিশৃঙ্খলা না করে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
নির্বাচনের আগে বিশেষ বিশেষ আসনে অস্বাভাবিকভাবে ভোটার স্থানান্তরের (মাইগ্রেশন) অভিযোগ তোলেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, যে বাড়িতে মাত্র ৪-৫ জন মানুষ থাকার কথা, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার দেখানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হোল্ডিং নম্বর ছাড়াই ভোটার নিবন্ধন করা হয়েছে। ইসি এসবের প্রমাণ পায়নি বললেও তাদের দেওয়া তথ্যে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি।
ইসিকে আসনভিত্তিক মাইগ্রেশনের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করার আহ্বান জানান এবং সন্দেহজনক কিছুর প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।
বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে ‘শান্তি কমিটি’ গঠন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বিরোধী পক্ষকে দমনের চেষ্টা চলতে পারে। তবে ইসি এই বিষয়টি তাদের জানা নেই বলে বিএনপি প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন তাদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে।
এসএন