© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাফাহ ক্রসিং সীমিত আকারে খুলে দিল ইসরাইল

শেয়ার করুন:
রাফাহ ক্রসিং সীমিত আকারে খুলে দিল ইসরাইল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৩১ এএম | ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রায় দুই বছর পর গাজা ও মিসরের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় খুলে দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির একাধিক গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

ইয়েদিওথ আহরোনোথের খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এই সীমান্ত সীমিত আকারে চালু হওয়ার পর ক্রসিং দিয়ে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো শুরু হয়েছে। সহায়তা ট্রাকগুলো প্রধানত খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জাম নিয়ে প্রবেশ করছে।

প্রতিবেশী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কয়েক মাসের যুদ্ধের পর গাজার অবস্থা এখনও ক্রান্তিকালীন। বিদ্যুৎ, পানি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত থাকায় স্থানীয় মানুষদের জন্য এই সাহায্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ফেরার প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাফাহ ক্রসিংয়ে কড়া নজরদারি রয়েছে। তবে আশার আলো হিসেবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উভয় দিক থেকে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মূলত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ জন গাজা উপত্যকা ছাড়তে পারবেন, আর প্রায় ৫০ জন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিরে আসবেন।

এই সংখ্যা ২০ লাখ অধিবাসীর গাজার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। ইসরাইলের গত দুই বছরের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তার মতে, অনেকেই তীব্র বোমাবর্ষণ এবং মানবিক পরিস্থিতির খারাপ অবস্থার কারণে গাজা ত্যাগ করেছিলেন। যুদ্ধের কিছু এলাকা শান্ত হওয়ায় এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য চাপ বাড়ায়, তারা এখন নিজের ঘর বা ঘরের যা অবশিষ্ট আছে, সেখানে ফিরে যেতে চাচ্ছেন।

ইসরাইলের চ্যানেল ১২ এক অজ্ঞাত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে আল জাজিরা জানায়, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মিশরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সীমান্তে একটি পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

গাজারবাসীদের জন্য বিশেষ করে রোগীদের জন্য মিশর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং হলো বিশ্বের প্রবেশদ্বার। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে সামরিক অভিযানের পর ২০২৪ সালের মে মাসে ক্রসিংটির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরাইল। এরপর এটা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এর ফলে গাজা উপত্যকা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আরও বেড়ে যায় মানবিক সংকট।

দীর্ঘ ২ বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে রাফাহ ক্রসিং খুলে দিতে সম্মত হয় ইসরাইল। গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) গাজায় বেসামরিক নীতির সমন্বয়কারী ইসরাইলি সরকারি সংস্থা সিওজিএটি রাফাহ ক্রসিং খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়।

সিওজিএটি জানায়, যুদ্ধের সময় যারা গাজা ছেড়ে মিসরে গিয়েছিলেন, শুধু তারাই নির্দিষ্ট শর্তে গাজা উপত্যকায় ফিরতে পারবেন। তবে গাজায় ফেরার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবশ্যই ইসরাইলের পূর্বানুমোদিত নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে হবে।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন