আগাম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন পেলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

আগাম সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য ও পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন। জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, রবিবারের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।

গত অক্টোবরে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দায়িত্ব নেওয়ার পর যে জনপ্রিয়তা তিনি অর্জন করেছেন, সেটিকেই কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামছেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি।

এএফপির টোকিও প্রতিনিধি জানায়, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ‘তাকাইচি ইতোমধ্যেই একজন শক্তিশালী, প্রভাবশালী ও প্রাজ্ঞ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং তিনি সত্যিকার অর্থেই নিজের দেশকে ভালোবাসেন।

একই পোস্টে তিনি জানান, আগামী ১৯ মার্চ তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন।

ট্রাম্প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান বাণিজ্য খাতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির দিকে এগোচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়েও দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার হচ্ছে। তিনি তাকাইচির প্রতি পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন ব্যক্ত করেন।

তার ভাষায়, ‘প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ও তাঁর জোট যে কাজ করছে, তার জন্য তারা শক্তিশালী জনসমর্থনের স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা বিদেশি নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন না। তবে ট্রাম্প এর ব্যতিক্রম ঘটিয়ে আগেও আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলে ও হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের মতো নেতাদের সমর্থন জানিয়েছেন।

৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্পকে জাপান সফরে আমন্ত্রণ জানান। তিনি ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন জানান এবং তাকে গলফ-সম্পর্কিত একটি স্মারক উপহার দেন।

গত জুলাইয়ে দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছান, যার ফলে জাপানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২৫ শতাংশে বাড়ানোর হুমকি কমে ১৫ শতাংশে নেমে আসে। এর বিনিময়ে জাপান বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

চীন যদি স্বশাসিত তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে-গত নভেম্বরে তাকাইচির এমন বক্তব্য নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হলেও ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

গণতান্ত্রিক তাইওয়ান কখনোই চীনের শাসনের অধীনে ছিল না। তবে বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের হুমকিও দিয়ে আসছে।

কিছু অনিশ্চিত ভোটার থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে তাকাইচির বড় ধরনের বিজয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। মূল্যস্ফীতি ও গোপন তহবিল কেলেঙ্কারির কারণে জনপ্রিয়তা হারানো লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে (এলডিপি) তিনি নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছেন।

কঠোর রক্ষণশীল নীতির জন্য পরিচিত হলেও তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তাকাইচির উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে-যে দেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রবীণ ভোটাররাই রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছেন।

টেম্পল ইউনিভার্সিটি জাপানের ইতিহাস ও এশীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক জেফ কিংস্টন বলেন, ‘নির্বাচনের ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাকাইচির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। তিনি শক্তিশালী জনসমর্থন, এমনকি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাও পেতে পারেন, যা তাকে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একজন শক্তিশালী জনসমর্থন পাওয়া রক্ষণশীল নেতার বিজয় ট্রাম্প স্বাগত জানাবেন। তিনি বিজয়ীদের পছন্দ করেন, আর তাকাইচি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও শুল্ক কমানোর বিনিয়োগ চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’

রবিবারের নিম্নকক্ষ নির্বাচনের আগে জরিপগুলো দেখাচ্ছে, এলডিপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় ২৩৩টিরও বেশি আসন অর্জন করতে পারে। শুক্রবার মাইনিচি শিম্বুন প্রকাশিত ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত স্মার্টফোনভিত্তিক জরিপে বলা হয়েছে, ৪৬৫ আসনের সংসদে এলডিপি ৩০০টির বেশি আসন পেতে পারে।

জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টির (জেআইপি) আসন যোগ হলে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও অর্জন করতে পারে বলে পত্রিকাটি জানায়।

অন্যদিকে প্রধান বিরোধী কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (সিডিপি) এবং এলডিপির সাবেক জোটসঙ্গী কোমেইতো মিলে গঠিত নতুন সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স তাদের বর্তমান ১৬৭টি আসনের প্রায় অর্ধেক হারাতে পারে বলে বিভিন্ন জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে।

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাকাইচির অর্থনৈতিক নীতির কারণে আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জাপানি সরকারি বন্ডের সুদের হার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ইয়েনের বিনিময়মূল্যে ব্যাপক ওঠানামা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের বিপুল ঋণের বোঝা এবং তাকাইচির প্রস্তাবিত ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ও করছাড়ের প্রতিশ্রুতি বাজারের এই উদ্বেগের মূল কারণ। তবে ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সূর্য মনে করেন, তাকাইচি অতিরিক্ত রাজস্ব অপচয়ে যাবেন, এমন আশঙ্কা করার কারণ নেই।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি

এমআর/টিকে 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ভোলায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ১৯ Feb 06, 2026
img
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে: ইসি আনোয়ারুল Feb 06, 2026
img
দেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায় : নাহিদ ইসলাম Feb 06, 2026
img
ঝালকাঠিতে ছাত্রদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প Feb 06, 2026
img
লুট হওয়া অধিকাংশ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে: ইসি মাছউদ Feb 06, 2026
নবীজির মৃত্যুর গুজবের সময় যা ঘটেছিল | ইসলামিক জ্ঞান Feb 06, 2026
ঢাকা ১৯ আসনে ভোটের দৌ'ড়ে কে এগিয়ে? Feb 06, 2026
রমজানে যে আমল বেশি বেশি করতেন মহানবী | ইসলামিক জ্ঞান Feb 06, 2026
বাউফল উপজেলায় জামায়াত আমিরের বক্তব্য Feb 06, 2026
img
ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যাবে: নাহিদ ইসলাম Feb 06, 2026
img
দিশার সঙ্গে তলবিন্দরের ভিডিও বিক্রি হচ্ছে হাজার হাজার টাকায়? Feb 06, 2026
img
ইরানের স্বার্থরক্ষায় চীনের সমর্থন Feb 06, 2026
ঢাকা ১৯ আসনে ভোটের দৌ'ড়ে কে এগিয়ে Feb 06, 2026
img
রংপুরে বাস-ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২, আহত ৬ Feb 06, 2026
img
নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না : জামায়াত আমির Feb 06, 2026
img
পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর সপ্তাহব্যাপী অভিযানে প্রাণ গেল ২১৬ সন্ত্রাসীর Feb 06, 2026
img
যমুনার কাছে আসা আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হতে নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের Feb 06, 2026
img
৯ম পে স্কেল দাবিতে যমুনার সামনে সংঘর্ষ, আহত ১৪ Feb 06, 2026
img
সমগ্র বাংলাদেশ আমার বাড়ি : জামায়াতের আমির Feb 06, 2026
img
গায়ের রং নিয়ে কটাক্ষ, থামেননি অভিনেত্রী ঈশানী Feb 06, 2026