রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের আশা ছেড়ে বিশ্বকাপে সিরাজ
ছবি: সংগৃহীত
১১:০৮ এএম | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দেড় বছরেরও বেশি সময় ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাননি মোহাম্মদ সিরাজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও তার নামটি ছিল না। ফলে স্বাভাবিকভাবে মেগা ইভেন্টটির আশা ছেড়ে লম্বা ছুটিতে জার্মানি ও স্পেনে সফর এবং প্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের খেলার দেখার পরিকল্পনা ছিল ভারতীয় পেসারের। কিন্তু বিস্ময়করভাবে অনেকটা ঝড়ের বেগেই বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন সিরাজ। প্রথম ম্যাচে নেমে শিকার করেন ৩ উইকেট।

মূলত সিরাজের জন্য বিশ্বকাপের দরজা খুলে যায় পেসার হার্ষিত রানার ইনজুরির সুবাদে। হাঁটুর চোটে ছিটকে গেছেন ভারতীয় এই তরুণ পেসার। তার বদলে ডাক পাওয়া সিরাজকে নিয়েই প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গতকাল (শনিবার) ভারত একাদশ সাজায়। এর প্রতিদানও দিয়েছেন, ৪ ওভারে ২৯ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। গতি আর সুইংয়ের মিশেলে শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটারদের খাবি খাইয়েছেন তিনি। সেটাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। ভারতের দেওয়া ১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মার্কিনিরা ১৩২ রান করেছে।

অথচ বিশ্বকাপ খেলার আশাও ছিল না ৩১ বছর বয়সী এই তারকার। জার্মানি-স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদকে ঘিরে তার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয় হায়দরাবাদের বন্ধুদের ইউরোপে লম্বা ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন সিরাজ। এমনকি তার অনুরোধ ছিল ছুটিতে থাকাকালে ভারতীয় দলের ট্রেনার অ্যাড্রিয়ান লে রুক্সের ফোন এলেও যেন তাকে বিরক্ত না করা হয়। লম্বা অবসর পেয়েছিলেন, আইপিএলের আগে কোনো ম্যাচের সূচি ছিল না তার।
বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার ধরন কেমন ছিল সিরাজ তার বর্ণনা দিলেন এভাবে, ‘হঠাৎ করেই সূর্য (অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব) ভাইয়ের ফোন। তিনি আমাকে বললেন, “প্রস্তুত হও, ব্যাগ গুছিয়ে চলে আসো।” আমি বললাম, “সূর্য ভাই, মজা করবেন না, এটা তো হওয়ার কথা নয়।” তিনি বললেন, “আমি সত্যি বলছি তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হও।” ফোন রাখার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় দলের নির্বাচক (প্রজ্ঞান) ওঝার ফোন পাই। হঠাৎ করেই যেন বজ্রপাত হওয়ার মতো অনুভূতি। সৃষ্টিকর্তা যা লিখে রেখেছেন, তা কেউ বদলাতে পারে না। আমি এসেছি, ম্যাচ খেলেছি সবই লেখা ছিল। তিনি মহান, তার ইচ্ছার বাইরে কিছুই হয় না।’
প্রথমে হার্ষিতের জায়গায় স্কোয়াডে সুযোগ, এরপর জাসপ্রিত বুমরাহ জ্বরে ভোগায় একাদশেও জায়গা তৈরি হয়ে যায় সিরাজের। অথচ ১৮ মাস আগে তিনি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। এবার প্রত্যাবর্তনটা হলো রূপকথার মতো। সিরাজ বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা আমার ভাগ্য বদলে দিয়েছেন। প্রায় ১০ বছর ধরে ভারতের হয়ে খেলছি। সুযোগ পেলে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় জানি। নতুন কেউ হলে অনেক কিছু ভাবতে হয়। কিন্তু আমি জানি এই ফরম্যাটে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয় এবং মানসিকভাবেও কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। গত রাতেও ঘুমানোর সময় ভেবেছিলাম, যে অস্ত্র আমাকে এতদিন সাফল্য দিয়েছে সেটাই ব্যবহার করব।’
সম্প্রতি রঞ্জি ট্রফিতে হায়দরাবাদের অধিনায়কত্ব করা সিরাজের প্রস্তুতিও ছিল প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার। বোলিংয়ের পরিকল্পনা কেমন ছিল তা জানিয়ে এই তারকা বলেন, ‘রঞ্জি ট্রফিতে যে লাইন-লেংথে বল করেছি, সেটাই ধরে রেখেছি। আমাদের ব্যাটিংয়ের সময়েই বুঝেছিলাম নতুন বল সহজে মারা যাচ্ছে না। তাই পরিকল্পনা ছিল নতুন বল দিয়ে স্টাম্প টু স্টাম্প বল করা।
সেখানে যদি উইকেট পাই, দল অনেক উপকৃত হবে। বিশেষ করে আর্শদীপের (সিং) এক্সিকিউশন ছিল অসাধারণ। তার তিন ওভার প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে, আর সেই চাপ থেকেই আমরা এই ফল পেয়েছি।’ উল্লেখ্য, ১৮ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট নেন আর্শদীপ।
আরআই/এসএন