প্রেমের সপ্তাহে একাকী দেবচন্দ্রিমা, কেমন সঙ্গী চান তিনি?
ছবি: সংগৃহীত
১২:৩৯ পিএম | ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রেমের সপ্তাহ জুড়ে চারপাশে যখন জোড়ায় জোড়ায় উদ্যাপনের আবহ, তখন অভিনেত্রী দেবচন্দ্রিমা সিংহরায় যেন এক অন্য মেজাজে। সদ্য দক্ষিণ ভারত ঘুরে ফিরেছেন তিনি, কারণ প্রিয় বান্ধবী অদ্রিজার বাগ্দান। কাছের মানুষের এই নতুন জীবনের সূচনায় উপস্থিত থেকে আনন্দ ভাগ করে নিলেও নিজের জীবনের ক্ষেত্রে তিনি এখনও একাই পথ চলতে স্বচ্ছন্দ। বন্ধুর আংটি বদলের হাসি, সাজসজ্জা আর পরিবারের উচ্ছ্বাস দেখে এলেও তাঁর মনে তাড়াহুড়োর কোনো ছাপ নেই।

প্রেম দিবসের প্রসঙ্গ উঠতেই দেবচন্দ্রিমার কণ্ঠে ভেসে আসে একরাশ বাস্তবতা। তাঁর কাছে ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে আটকে নেই, বরং প্রতিটি দিনই হতে পারে অনুভূতির। বন্ধুর বিয়ে বা বাগ্দান দেখে হঠাৎ নিজের জীবনে শূন্যতা টের পাওয়ার প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট, বিয়ে তাঁর কাছে কেবল দু’জন মানুষের নয়, দু’টি পরিবারের বন্ধন। তাই সমাজের চাপ বা সমবয়সীদের সিদ্ধান্ত দেখে তাড়াহুড়ো করে কোনো পদক্ষেপে তিনি বিশ্বাসী নন।
বিয়েবাড়ির আড্ডায় বারবার একই প্রশ্ন শুনতে হয় তাঁকে—কবে নিজের বিয়ে? এই চেনা সামাজিক কৌতূহলকে তিনি মেনে নিয়েছেন স্বাভাবিক বলেই। তবে নির্দিষ্ট বয়সের গণ্ডিতে জীবন বাঁধার পক্ষপাতী নন তিনি। ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে দেরিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই বেশি মূল্য দেন দেবচন্দ্রিমা। তাঁর কথায়, নিজের সময়, নিজের উপলব্ধি এই দু’টিই সবচেয়ে বড় পথপ্রদর্শক।
দীর্ঘদিন একা থাকতে থাকতে নিজের পছন্দ-অপছন্দ, শক্তি-দুর্বলতা সবকিছু নিয়েই ভাবার সুযোগ পেয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কাছে আত্মপ্রেম মানে আত্মসম্মান। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এখন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পরিণত যেখানে আবেগের বুদ্ধিমত্তা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর বোঝাপড়াই মূল চাবিকাঠি। ভুল হলে ক্ষমা চাইতে দ্বিধা নেই, কিন্তু অযথা দোষ স্বীকারেও তিনি রাজি নন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে সুস্থভাবে শেষ করার সাহসকেও সমান গুরুত্ব দেন তিনি।
ভবিষ্যতের সঙ্গী নিয়ে দেবচন্দ্রিমার ভাবনাও স্পষ্ট। ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা আর সম্মানের পাশাপাশি তিনি চান এমন একজন মানুষ, যিনি তাঁর কাজের জগৎ, তাঁর পরিশ্রমে তৈরি অবস্থানকে বুঝবেন। তাঁর মতে, সম্পর্কের ভিত গড়ে ওঠে সম্মানের ওপরেই; ভালোবাসা তখনই পূর্ণতা পায়। অতীত সম্পর্ক নিয়ে কটাক্ষ বা বিষোদ্গারেও তিনি বিশ্বাসী নন। একসময় যে সম্পর্ক ছিল, তারও প্রাপ্য সম্মান আছে এই বিশ্বাসেই এগিয়ে চলছেন দেবচন্দ্রিমা সিংহরায়, নিজের ছন্দে, নিজের সময়ে।
পিআর/এসএন