রাস্তায় রাত কাটানো এপি ধিলন এখন ৮৩ কোটি রুপির মালিক
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪৯ পিএম | ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জনপ্রিয় কানাডীয় গায়ক ও র্যাপার এপি ধিলন বিশ্বজুড়ে আজ পরিচিত নাম। ইউটিউবে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাপুটে উপস্থিতি আর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৩ কোটি রুপি (প্রায় ১১০ কোটি) টাকা। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক কঠিন সংগ্রামের গল্প।
সম্প্রতি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’র চতুর্থ মৌসুমে হাজির হয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই শিল্পী জানান, ‘কানাডায় আসার পর প্রথম দুই দিন রাস্তায় ঘুমাতে হয়েছিল। তখন তার কাছে হোটেল বুক করার মতো টাকা ছিল না।’
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কপিল শর্মা তার জীবনের কঠিন অধ্যায় সম্পর্কে জানতে চাইলে এপি ধিলন বলেন, ‘কানাডায় পৌঁছানোর পর থাকার মতো কোনো জায়গা ছিল না। বাবা কিছু টাকা দিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু আমি রুপার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাইনি। তখন আমার কাছে ক্রেডিট কার্ডও ছিল না।’

তিনি জানান, হোটেলে গিয়ে নগদ টাকা দেখালেও ক্রেডিট কার্ড না থাকায় তাকে রুম দেয়া হয়নি। এরপর বাধ্য হয়ে হোটেলের সামনেই ঘুমাতে হয়েছিল।’
দুদিন রাস্তায় কাটানোর পর এক অচেনা ভারতীয় তরুণীর সাহায্যে পরিস্থিতি বদলায়। দ্বিতীয় রাতে এক ভারতীয় মেয়ে এসে জিজ্ঞেস করে, আমাকে দেখতে গৃহহীন লাগছেনা তবু বাইরে কেন ঘুমাচ্ছি। আমি সব খুলে বলি। সে তার বয়ফ্রেন্ডকে রাজি করায় ক্রেডিট কার্ড দিতে।’
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ান এপি ধিলন। কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি একের পর এক ছোট কাজ করেন জীবিকা নির্বাহের জন্য। গ্যাস স্টেশন, মুদি দোকান ও ইলেকট্রনিকস রিটেইল চেইন বেস্ট বাইতেও কাজ করেছেন। দিনে ১০–১২ ঘণ্টা কাজ করে তারপর কলেজে যেতেন তিনি।
সংগীতের প্রতি ভালোবাসা কখনও তাকে ছাড়েনি। ভাড়া বাড়ির ছোট একটি গ্যারেজেই শুরু হয়েছিল তার সংগীতচর্চা।
ধিলন বলেন, ‘আমি যে বাড়িতে থাকতাম, সেখানে একটা ছোট গ্যারেজ ছিল। সেখানে আমি একটা ছোট ঘর বানাই প্লাইউড দিয়ে। ধীরে ধীরে যন্ত্রপাতি কিনতে শুরু করি। সেখানেই আমি প্র্যাকটিস চালিয়ে যাই। এই ছোট ঘরই একসময় স্বপ্নের কারখানায় পরিণত হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় ভবিষ্যতের তারকা হয়ে ওঠার যাত্রা।’
আজ সেই সংগ্রামী তরুণই হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক সংগীতজগতের পরিচিত মুখ। ‘ব্রাউন মুন্ডে’, ‘এক্সকিউজ’, ‘ইনসেন’, ‘উইথ ইউ’, ‘দিল নু’র মতো একের পর এক হিট গান এপি ধিলনকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শেখরে। তার গল্প এখন হাজারো তরুণের অনুপ্রেরণা।
পিআর/এসএন