বিচারপতি নাইমা হায়দারের পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত
০১:১৩ পিএম | ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ পত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিচারপতি নাইমা হায়দার গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্বীয় পদ থেকে পদত্যাগ করার ইচ্ছা পোষণ করে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সসুপ্রিম কোর্ট থেকে পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অনিয়ম ও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে বিচারপতি নাইমা হায়দারসহ ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে বিচারপতি নাইমা হায়দারের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি পদত্যাগ করলেন।
এর আগে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি এর আগে হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতিকে অপসারণ করেছেন।
চব্বিশের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৯ জন বিচারপতি এখন আর দায়িত্বে নেই (তাদের কেউ কেউ সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে তদন্তের পর বাধ্যতামূলক অবসরে, কেউ কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ, আর কেউ কেউ অবসরে চলে গেছেন)। বাকি তিন বিচারপতি পদে থাকলেও বেঞ্চের দায়িত্বে (বিচারিক কাজে নিয়োজিত) নেই। এ ছাড়া সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিল হওয়ায় চলতি মাসে বিচারপতি এম আর হাসানকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ছুটিতে পাঠানো মোট ১৩ বিচারপতির বাইরেও হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতি স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার একজন হলেন বিচারপতি মামনুন রহমান। তিনিও পদত্যাগ করেছেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর মেয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এছাড়া, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কেল বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৮৯ সালে জেলা আদালতে আইন পেশায় যোগ দেন নাইমা হায়দার । ১৯৯৩ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী এবং ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৯ সালের ৬ জুন তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১১ সালের ৬ জুন হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
পিএ/এসএন