© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি : আমীর খসরু

শেয়ার করুন:
আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি : আমীর খসরু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৩০ পিএম | ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনে আপনারা রাজপথে থেকে যারা গুম, খুন ও নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, পরিবার লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে, পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন, জেলখানায় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন-বাড়িতে থাকতে পারেননি, বেড়িবাঁধে থেকেছেন, ধানক্ষেতে থেকেছেন। ৬০ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। এই আন্দোলন কীসের জন্য ছিল? এই আন্দোলন ছিল মানুষের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের সমর্থনে গণমিছিল-পূর্ব জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, এই আন্দোলন শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে, যখন ভোট গণনা শেষ হবে এবং বিজয়ের সংবাদ বাংলাদেশ ও বিশ্বের কাছে পৌঁছাবে। তখনই হবে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার যে শপথ আমরা গ্রহণ করেছি, তা পূরণের দিন তখনই শুরু হবে। তাই চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। এখন থেকে নির্বাচনের দিন রাত পর্যন্ত, ভোটের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত সবাইকে জাগ্রত সৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা নির্বাচন করছেন তারা দৃশ্যমান শক্তি নয়, তাদের দেখা যায় না। তারা অন্যভাবে ক্ষমতায় আসার পাঁয়তারা করছে। শুনতে পাচ্ছেন না? সিল বানাচ্ছে, ব্যালট পেপার, বোরকা, ন্যাশনাল আইডি কার্ড, বিকাশ-এসব ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এটা করতে দেওয়া যাবে না। সবাই চোখ-কান খোলা রাখবেন। যেখানে সন্দেহ, যেখানে ভুয়া ভোট দিতে যাবে, সেখানে বাধা দিতে হবে। তারা কিন্তু ভুয়া ভোট দেওয়ার তালে আছে। তারা জানে, জনগণের আস্থা নিয়ে তারা রাজনীতি করতে পারবে না। তাই ভুয়া ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমির খসরু বলেন, আবু সুফিয়ান আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের সাথী, আমারও আন্দোলন-সংগ্রামের সাথী। সার্বক্ষণিকভাবে আমরা রাজপথে লড়েছি। দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর আমরা বারবার জেলে গিয়েছি, কিন্তু আপস করিনি। খালেদা জিয়া আপস করেননি, তারেক রহমান আপস করেননি, বিএনপির নেতাকর্মীরাও আপস করেননি। তাই এই নির্বাচনেও আপস করা যাবে না।

নির্দ্বিধায় ও নির্বিঘ্নে যেন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং ভোট দিতে পারে-সেটি নিশ্চিত করতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ভোটে জিততে চায়, কোনো ধরনের কারচুপির মাধ্যমে নয়।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন-সেই নির্বাচনে শুধু চট্টগ্রাম-৯ আসন নয়, সারা দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে আগামীর নিরাপদ বাংলাদেশ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ, জনগণের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারা ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

তিনি বলেন, আমরা বিজয়ের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। এই বিজয় হবে জনগণের বিজয়, এ বিজয় হবে গণতন্ত্রের বিজয়। এ বিজয় হবে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিজয়। এ বিজয় হবে জিয়া পরিবারের সুযোগ্য উত্তরসূরি ও এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক তারেক রহমানের বিজয়।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের চিফ কো-অর্ডিনেটর ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ সামশুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ সবুর।

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন