বিসিবির চাওয়া পূরণ করল আইসিসি
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৪ এএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কেবলমাত্র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটাই খেলা হলো না বাংলাদেশের–একটা আফসোস হয়তো দীর্ঘ দিন থেকে যাবে ক্রিকেটার এবং ভক্তদের। এই ইস্যুতে গত কয়েক দিন ধরেই অস্থিরতা ছিল ক্রিকেট দুনিয়ায়, গড়িয়েছে অনেক জল। বাংলাদেশের সমর্থনে পাশে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত দ্বিমুখী চাপে বাংলাদেশের সব চাওয়া পূরণ করল আইসিসি।
শেষ পর্যন্ত সৃষ্ট জট ছুটল গত পরশু লাহোরের বৈঠকে। পাকিস্তান খেলবে ভারতের বিপক্ষে। অনেক দিন পর ক্রিকেটে ভারতকে চাপে ফেলতে পেরে খুশি পাকিস্তান। জয় হলো ভারতের ইগোরও, তারা বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী ভেন্যু পরিবর্তন করেনি। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একেবারে শূন্য হাতে নেই। তাদের কোনো শাস্তি বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। আইসিসি বাংলাদেশের পাওনা টাকা দেবে। বিশ্বকাপের লাভের ভাগও দেবে। ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসির ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে। আসলে ক্রিকেটে ভারতের মতো মোড়লকে অস্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ফেলতে পরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান—উভয়েই নিজেদের নৈতিক জয় খুঁজে নিচ্ছে। শুধু আফসোসটা রয়ে গেল বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের—রাজনীতির বলি হয়ে তাঁদের জীবন থেকে হারিয়ে গেল একটা আইসিসির ইভেন্ট। শুধু আফসোসটা রয়ে গেল বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের—রাজনীতির বলি হয়ে লিটনদের জীবন থেকে হারিয়ে গেল একটা আইসিসির ইভেন্ট।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশ। এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান। সমর্থন জানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট করে দেশটির সরকার। তাতে বেশ বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল আইসিসি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ-ই যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার বার্ষিক আয়ের মূল উৎস। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, দর্শকপ্রিয় ম্যাচটি না হলে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ক্ষতি গুনতে হবে। তাই গত কয়েক দিনে চিন্তার শেষ ছিল না আইসিসির; সমাধানের পথ খুঁজতে ব্যস্ত ছিল সংস্থাটি। আলোচিত ইস্যুতে সবশেষ গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছিল, পিসিবি এবং বিসিবি প্রধানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনাই করেছেন আইসিসির প্রতিনিধি হয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকা ইমরান খাজা। এবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানাল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যস্থা নেবে হবে না আইসিসি।
ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্ততিতে আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা বলেন, ‘আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক, তবে এতে একটি মূল ক্রিকেট জাতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আসবে না। বিসিবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দেশে ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগ আরও শক্তিশালী করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইকোসিস্টেম আমাদের কাছে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত—যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার যোগ্য এবং কোনো স্বল্পমেয়াদি ব্যাঘাত দিয়ে একে সংজ্ঞায়িত করা যায় না।’
পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনতেই নাকভি ও বুলবুলের সঙ্গে বৈঠক করেন ইমরান খাজা। তিনটি শর্ত পূরণের প্রেক্ষিতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান মাঠে নামবে বলে জানিয়েছিল দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও টিভি। এই ইস্যুতে আইসিসির বিবৃতিতে কিছু না বলা হলেও, বাংলাদেশের সব দাবি মেনে নেওয়ায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি যে আলোর মুখ দেখছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতের বিপক্ষে খেলতে আজ পিসিবিকে অনুরোধ করেছেন বুলবুল। তার কিছুক্ষণ পরই বাংলাদেশের সব দাবি মেনে আইসিসির ওই বিবৃতি। এতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে সব অচলাবস্থার-ই যেন অবসান হলো।
এবি/টিকে