© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে কী পরিবর্তন, ‘না’ জিতলে কী হবে?

শেয়ার করুন:
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে কী পরিবর্তন, ‘না’ জিতলে কী হবে?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩২ এএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জুলাই বিপ্লবের চেতনা সামনে রেখে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নটিও। সেদিন সংসদ ভোটের পাশাপাশি পৃথক একটি ব্যালটে ভোটাররা গণভোটে অংশ নেবেন, যেখানে সংক্ষিপ্ত আকারে মাত্র চারটি নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ থাকবে। ওই ব্যালটে জুলাই সনদ কার্যকর করার পক্ষে জনসমর্থন রয়েছে কি না-সে বিষয়ে ভোটাররা শুধু ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ লিখে মতামত জানাবেন।

সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট, দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সাংবিধানিক এবং সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবনা রয়েছে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পেলে আগামী সংসদ ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর যদি ‘না’ জয় পায় তাহলে জুলাই সনদই কার্যকর হবে না।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে গণভোটে একটি প্রশ্ন থাকবে, যার আলোকে চারটি বিষয়ে সম্মতি দিতে হবে।

ব্যালটের প্রশ্ন থাকবে- ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’, (হ্যাঁ/ না):

হ্যাঁ এর মাধ্যমে যে চারটি বিষয় উঠে আসবে

(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাগবে।

(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।

(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

যেভাবে হবে গণভোট

গণভোট বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে- অধ্যাদেশে বর্ণিত বিষয় ছাড়া ভোট দানের অন্যান্য পদ্ধতির বিষয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

যে প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, সেই প্রশ্নে হ্যাঁ-সূচক ভোট দিতে চাইলে একজন ভোটার ব্যালট পেপারে মুদ্রিত হ্যাঁ-সূচক ঘরে এবং না-সূচক ভোটদান করিতে চাহিলে না-সূচক ঘরে কমিশন কর্তৃক সরবরাহ করা সিলমোহরে ভোট দেবেন। উপ-ধারা (২) এ বলা হয়েছে ভোট দেয়ার পর ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করে নির্ধারিত স্থানে থাকা ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো আসলে গণভোটে একটি প্রশ্ন ও যে চারটি বিষয়ে ভোটাররা ভোট দেবেন তাতে কী পরিবর্তন আসতে পারে।

গণভোটের অধ্যাদেশে বলা হয়েছে- প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হলে-

(ক) এই আদেশ জারির পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে;

(খ) নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন;

(গ) পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্য দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। তা সম্পন্ন করবার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

(২) পরিষদের কার্যধারায় অংশগ্রহণের সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পরিষদ সদস্য হিসেবে অভিহিত হবেন।

(৩) এই আদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পরিষদ এর অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি, সংবিধান সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাব উত্থাপনের পদ্ধতি, প্রস্তাব বিবেচনা ও গ্রহণ এবং অন্য সব বিষয়ে কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করবে।

(৪) জাতীয় সংসদ সচিবালয় পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

তথ্য বলছে মূলত সংবিধান–জুলাই সনদ সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে তিনটি স্তর। প্রথমত, আইনি ভিত্তি দিতে আদেশ জারি। গত ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। বাস্তবায়নের দ্বিতীয় স্তরে হবে গণভোট। এই গণভোট হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত অংশ নিয়ে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তৃতীয় স্তর শুরু হবে।

তৃতীয় স্তর বাস্তবায়নে যেসব বিষয়ে আসবে পরিবর্তন

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেয়া হবে। বাংলাদেশের নাগরিকরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি।

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা- ৮,৪৮, ৫৬ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে। বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল, জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে- নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টিও।

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। সনদে নতুন যে প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে- জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলীয় নেতা/উপনেতাও উপস্থিত থাকতে হবে।

অন্যদিকে, জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্মকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয়কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্মকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুইকক্ষের দুই তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে।

জুলাই সনদে প্রধানন্ত্রীর মেয়াদের বিষয়েও বলা হয়েছে। এতে বলা হয় এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারেন। তবে জুলাই সনদে বাস্তবায়ন হলে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও এবার জুলাই সনদে সেটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে বলেও জুলাই সনদে বলা হয়েছে।

সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। গণভোটে সনদ কার্যকর হলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। তবে, জুলাই সনদে বলা হয়েছে- বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে নানা নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে, জুলাই সনদের এই অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।

বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেয়া, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলোও যুক্ত করা হয়েছে জুলাই সনদে।

আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করার কথা আছে বিদ্যমান সংবিধানে। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেও থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সংবিধানে থাকলেও কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে।

একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।

‘না’ ভোট জয়ী হলে কী হবে

গণভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, এর প্রকৃত মূল্য নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। এসব বিষয় মানুষ কমবেশি সবাই জানলেও গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে কী ঘটবে তা নিয়ে অনেকেরই অস্পষ্টতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে না। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে না এবং সংবিধান সংস্কারও হবে না। জাতীয় সংসদ বিদ্যমান কাঠামোতেই চলবে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা থাকবে না।

সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে জাতীয় সংসদে কোনো বিষয়ে ভেটো দিতে পারবেন না। সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বাড়বে না।

রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার নামে মৃত্যুদণ্ড মওকুফসহ বর্তমান ক্ষমতাগুলো আগের মতোই প্রয়োগ করতে পারবেন। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত সংস্কার বাস্তবায়নের কোনও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমবে, সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা বাড়বে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

গণভোট বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ জানান, জুলাই সনদের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৩০টি প্রস্তাব নিয়ে গণভোট হবে। এসব প্রস্তাবকে চারটি প্রশ্নে সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। শেষ প্রশ্নটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অধ্যাপক রীয়াজের মতে, আমাদের সব থেকে বড় সংকটগুলোর একটা হলো রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব। গণভোটের জনগণের সম্মতির মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পথ আরও সুগম হবে।

গণভোটে ফ্যাসিস্ট হওয়ার পথ বন্ধ হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যারা দেশ চালান, আমাদের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্যই তারা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পান তারা। আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করে তাদের এই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতে হবে।

পিএ/টিকে 

মন্তব্য করুন