চলতি মাসের ১০ দিনেই ৯ দফা সমন্বয়, কতটা বাড়ল স্বর্ণের দাম?
ছবি: সংগৃহীত
১০:০০ পিএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা যেন থামছেই না। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিন পার হতে না হতেই ৯ বার মূল্যবান এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে। উত্থান-পতনের প্রবণতায় দাম বেড়েছে ১ হাজার ৩৪১ টাকা।
স্বর্ণের বাজারে কখনো দাম কমছে, আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তা বড় অঙ্কে বাড়ছে। এই ঘনঘন দাম পরিবর্তনের ফলে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারির ৯ দফা সমন্বয়ে দাম বেড়েছে ৪ বার, আর কমেছে ৫ বার।
ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতার চিত্র দেখা যায়। গত ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই পর পর তিনবার দাম কমানো হয়েছিল। গত ১ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানোর পর ২ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় যথাক্রমে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানো হয়।
এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি হুট করেই চিত্র বদলে যায়। সেদিন দুই দফায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং ১০ হাজার ৯০৬ টাকা দাম বাড়ানো হয়।
উত্থান-পতনের ধারায় ৬ ফেব্রুয়ারি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হলেও পরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি সমপরিমাণ দাম (৭ হাজার ৬৪০ টাকা) আবার বাড়িয়ে দেয়া হয়। একই দিন বিকেলে আবার ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়।
আর সবশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ভরি মূল্যবান এই ধাতু বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।
কেন এই অস্থিরতা?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহের ঘাটতির কারণেই এত দ্রুত সমন্বয় করতে হচ্ছে। সাধারণত বিশ্ববাজারে দামের বড় কোনো পরিবর্তন এলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে। বাজুস শুধু দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে।
তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের মূল উদ্দেশ হলো পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া। যদি দাম সমন্বয় না করা হয়, দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববাজারে ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারেরও দাম সমন্বয় করা হয়।
বাজুস সভাপতি জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে পৃথিবীর বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুত করা হয়। বাস্তবে কতটা ফিজিক্যাল স্বর্ণ রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এসকে/এসএন